আতিকুর রহমান আতিক-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

নবদিগন্তের আবিষ্কারক

লিখেছেন: আতিকুর রহমান আতিক

 

ভাস্কো দ্যা গামা ছিলেন পর্তুগীজ নাবিক। ১৪৬০ খ্রিঃ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশে আসার জলপথ আবিষ্কারক। তাঁর এ আবিষ্কার ইউরোপীয়দের এক নব দিগন্তের সূচনা করেছিল। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি এ ভারতবর্ষ। ঐতিহাসিক দার্শনিক স্ট্রাবো, হেরোডটাস এবং মেগাস্থিনিসের বিবরণী থেকে জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই এই ভারতবর্ষ ছিল বিত্তবৈভব এবং অতুল ঐশ্বর্যের পীঠস্থান। তাই সম্পদ আহরণের নেশায় অন্যান্য জাতির ন্যায় ইউরোপীয়গণও এদেশে আগমন করে।

 

মধ্যযুগে ইউরোপ থেকে মধ্যপাচ্য এবং ভারত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যে বাণিজ্যপথ ছিল তা ছিল ইউরোপ ও আরব বণিকদের মূল ক্ষেত্র। আরব বণিকরা ভারতীয় পণ্যসামগ্রী নিয়ে আরব সাগর ও লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগর উপকূলে ইউরোপীয় বণিকদের নিকট পৌঁছে দিত। ইউরোপীয় বণিকরা এ সকল পণ্য ক্রয় করে অধিক দামে বিক্রয় করতো। ভারতীয় পণ্যের উপর আরব বণিকদের একচেটিয়া প্রাধান্য থাকায় ইউরোপীয় বণিকগণ ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠেন।

তারা সরাসরি ব্যবসা করার জন্য উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ১৪৫৩ খ্রিঃ তুরস্ক কনস্টান্টিনোপল অধিকার করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করলে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ভারতের ব্যবসা বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে ইউরোপে রেনেসাঁ যুগের সূচনা হলে মানুষের মনে দুঃসাহস এবং অজানাকে জানার দুর্নিবার কৌতুহল তৈরি হয়। ভারতে আসার নতুন পথ আবিষ্কারের চেষ্টা চালায় পর্তুগাল ও স্পেনের নাবিকরা। স্পেনের রাণী ইসাবেলার নির্দেশে ভারতের সাথে বাণিজ্যপথ আবিষ্কার করতে গিয়ে কলম্বাস ১৪৯২ খ্রিঃ আমেরিকা আবিষ্কার করেন। ১৪৯৭ খ্রিঃ পর্তুগীজ নাবিক বার্থলামিউ দিয়াজ উত্তমাশা অন্তঃরীপ আবিষ্কার ঘুরে স্বদেশে ফিরে আসেন। তার প্রদর্শিত পথে পর্তুগালের রাজার নির্দেশে ভাস্কো দ্যা গামা একটি অভিযাত্রিক দল নিয়ে ১৪৯৮ খ্রিঃ জলপথে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছেন। ভাস্কো দ্যা গামার আবিষ্কৃত পথ ধরেই পরবর্তীতে পর্তুগাল, ডাচ, দিনেমার, ইংরেজ ও ফরাসী বণিকরা এ উপমহাদেশে আসতে থাকেন। তাই ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করে ভাস্কো দ্যা গামা ইউরোপীয়দের এদেশে ব্যবসা বাণিজ্যের নবদিগন্তের সূচনা করেন।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ar-atique/20280.html



মন্তব্য করুন