অনিক-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

বৃষ্টিচ্ছন্ন ভালবাসা

লিখেছেন: অনিক

কলেজের প্রথম দিনেই শাওন এর সাথে দেখা হয় তুলির। তাড়াহুড়া করে কলেজ গেইট অতিক্রম করতে গিয়ে ধাক্কা লাগে দুজনের। মোটা ফ্রেমের গ্লাসে ভালই লাগছিল ছেলেটাকে। স্যরি বলেই নিজেকে সামলে নিয়েছিল তুলি। সেদিনের কিছুদিন পরেই শাওনের সাথে তুলির পরিচয়। তাও আবার ফেইসবুকে। তারো কিছুদিন পর সামনাসামনি কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা, এরপর হতে বেশ ভালো বন্ধু। এভাবেই ফাস্ট ইয়ার কেটে গেলো। কলেজের সবার কাছেই তাদের সম্পর্ক ‘প্রেন্ধুর্ত’ নামেই পরিচিত। ভাবছেন , প্রেন্ধুর্ত আবার কি জিনিস! তাই তো?
এর ব্যাখ্যা অদ্ভুত। প্রেমিক ভাবাপন্ন বন্ধুর্তকে নাকি প্রেন্ধুর্ত বলা হই। কলেজ ক্যন্টিনে শাওনকে সেই প্রেন্ধুর্ত নিয়ে খোটা দেই বন্ধুরা। তাদের ভাষাই এটা খোটা নয়, নমনীয় বাঁশ!!
সেদিন প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। পুরো রুম জুড়েই আধারের বসতি, মাঝে মোবাইল হাতে খাটে বসা তুলি। মনের মাঝে হাজারো প্রশ্নের আনাগোনা চলছে সেই সকাল থেকেই। প্রশ্ন হাজারটি হলেও উত্তর একটিই। শাওন কি ভালোবাসে তাকে , নাকি তা শুধুই বন্ধুর্ত। বন্ধুর্ত ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে সে কিছু বলে না। কিন্তু শাওন তো বলতে পারতো। সে ঠিক করে রাখলো, কোন একদিন সে বলেই দিবে। শাওন তাকে ফিরিয়ে দিলে সে শেষই করে দিবে নিজেকে! ডায়েরির পাতা শেষের পথে তবু আজ অবধি অপেক্ষাই করে আছে সে…
প্রকৃতি বোধই তুলির দিকেই হাত বাড়ালো, না হয়তো শহরের যান্ত্রিক জীবনে এত মানুষের ভীড়ে শাওন কিনা তুলিকেই ভালবেসে বসলো!! শাওন অনেক ভাবেই বোঝাতে চেষ্টা করলো তুলিকে কিন্তু তুলি তা বন্ধুর্তই ভেবে বসে আছে। অনেক রাগ হচ্ছে তুলির প্রতি। মেয়েটা হার্টলেস নাকি! ১৪ ফেব্রুয়ারী ক্যাম্পাসে আসতে বলা, পার্কের বেঞ্ছিতে বসে আড্ডা কিছুই কি সে বোঝে না? নাকি বোঝেও না বোঝার ভান করে থাকে। বৃষ্টিতে আবহাওয়া ঠান্ডা হলেও প্রচন্ড ঘামছে শাওন। মেয়েরা নাকি পান থেকে চুন খসলেই বুঝে যাই কি চাই ছেলেরা। তাহলে তুলি কেন বুঝবে না?
প্রাই দেড় বছর অপেক্ষার পর আর অপেক্ষা করতে রাজি না শাওন। আজই সে তুলিকে বলবে সে তাকে ভালবাসে। ফোন দিতে মোবাইল হাতে নিয়েই দেখে ২৮ মিসকল! আর এর সবকটাই তুলির। সাইলেন্ট থাকাই টেরই পাইনি সে। ২৯ নাম্বার কল রিসিভ করলো সে,
- শাওন? ফোন ধরছিস না কেনো?
- দেখিনি। স্যরি। তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিল।
- আমারো তোর সাথে কথা আছে অনেক
- তুই বল আগে তাহলে।
- না, কেউ কিছু বলবো না। কলেজের প্রথম গেইটে দাড়াবি তুই ।আমি আসছি।
- কেন? কি হয়েছে?।
- আসবি না?
- আসছি।

তুলি আসার আরো ৫ মিনিট পর শাওন পৌছালো। শাওনকে দেখেই হার্ট বিট মুহুর্তেই বেড়ে গেলো তুলির। কিন্তু আজ তাকে বলতে হবেই।
- কিরে ভিজছিস কেনো? ছাতার নিচে আয়।
- না, ছাতা বন্ধ কর বলছি।
- পাগল নাকি! কি বৃষ্টি পড়ছে দেখছিস?
- পড়ুক। যে বৃষ্টি আজ একসাথে ভেজার সুযোগ করে দিয়েছে, তাকেই ভালবাসি।
- তোর মাথা গেছে।
- শাওন থেকে ছাতা টেনে নিয়ে তুলি বন্ধ করে দিলো।
- শাওন আজ অন্য এক তুলিকে দেখছে। এই তুলি রহস্যময়। সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না।
- শাওন, আজকের এই মুহুর্ত হতে তুই আমাকে আর তুই বলবি না
- মানে কি? কি বলবো তাহলে?
- তুমি বলবি।
- তুমি! তোর মাথা আসলেই গেছে , চল এখান থেকে।
- তুই এত গাধা কেন? কেন বুঝিস না আমি তোকে ভালবাসি!
- শাওন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। হতবাক হয়ে তাকিয়েই আছে।
- প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিস না।
- শাওন এতোক্ষণে টের পেলো যা হচ্ছে তা সত্যিই। তুলির হাত ধরে বললো, আমি তোকে কেমনে ফিরিয়ে দিব বল? তোর সাথে আমার অনেক কথা ছিল না? সব তো তুই বলেই দিলি। আমিও তোকে ভালবাসি।
- আবার তুই!!!
- আচ্ছা …… তুমি…..

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/anik/21724.html



মন্তব্য করুন