অনিক-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

একজন ঐশীর মানষিক মৃত্যু

লিখেছেন: অনিক

ফেইসবুকের টপিক এখন ঐশী। দোষী প্রমাণ হওয়ার আগেই
ফেইসবুক তাকে রায় দিয়ে দিয়েছে। আর
সে রায়ে ঐশী স্থান পেতে যাচ্ছে ‘নষ্ট’দের দলে।
আচ্ছা, আমরা কি ঐশীকেই দোষ দিয়ে যাবো? একটু
আগে সুইসাইডাল নোটটি পড়লাম। অত্যন্ত
গোছানো লিখা। ইংলিশ মিডিয়ামের
ছাত্রী এতটা গুছিয়ে বাংলা লিখতে পারে জানতাম না।
মেয়েটির লিখা যতটা গোছালো ছিল,
ততটা অগোছালো ছিল তার জীবন। আমি না দেখেই
বলে দিতে পারি, তার হাতের লিখা অসাধারণ ছিল। তীব্র
মানষিক যন্ত্রণায় কাটানো একটা মেয়ের
দাড়া হওয়া অপরাধের আগে আমাদের সেই অপরাধের কারণ
গুলো ও জানা উচিত।ঐশীর ব্যক্তি জীবন সুন্দর হওয়ার
কথা ছিল অন্য দশ জনের মত। কেন হল না? ব্যর্থতা তার
মা-বাবার। তারা পারেনি তার জন্যে সুস্থ পরিবেশ
সৃষ্টি করতে।
ঐশীর প্রথম স্টেপ ছিল সুইসাইড। যেকোন
কারণে সে করেনি। যদি সে তা করতো, আজ
আমরা ফেইসবুক জনতা তার জন্যে হাহাকার করতাম।
সন্তানকে বেড়ে তোলার দায়িত্ব মা বাবার। তারা যদি,
পশুর ন্যয় তাকে বড় করে সে পশুর ন্যয় বিহেভ করবে।
সো, এক হাতে তালি কখনোই বাজে না। ঐশী বাবা,
মাকে মারার আগে হাজার বার মরছে নিজের মধ্যে। প্রথম
আলো থেকে জানলাম, খুন টা করেছে তার বন্ধু। সে শুধু
কফিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছে। এবার বুঝুন কি রকম
পরিবেশে সে বেড়ে উঠতেছিল যেখানে বন্ধু
সরাসরি খুনে ইনফ্লুয়েন্স করে। ঐশীর বাবা-মায়ের মৃত্যুর
জন্যে তারা নিজেরাই দায়ী।
তারা শুধু নিজেদের জীবন দিলেন তা নয়, ঐশীর জীবন টাই
নষ্ট করে দিয়েছে। মরে গিয়েও তাই নিজেদের ভুল
এড়ানো যাবে না।
আমাদের সমাজে ঐশীর মত অনেক মেয়েই
পরিবারে মেন্টাল টর্চারের উপর থাকে। কেউ টিকে থাকে,
কেউ সুইসাইডকে বেছে নেই যন্ত্রণা হতে রক্ষা পেতে।
সে ক্ষেত্রে, ঐশী সে পথে যেতে যেতে থেমে গেলো।
বিপরীতে করে বসলো ভয়ানক অপরাধ।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/anik/21268.html



মন্তব্য করুন