এহসান-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ভালোবাসা, ভাবনা!

লিখেছেন: এহসান

আজ পড়ানোর পর হেঁটে আসছিলাম। অজানা কোন কারনে মন খারাপ ছিল। কারন জানার অনেক ট্রাই করলাম, পেলাম না। তাই হেঁটে আসছিলাম। নিজের সাথে কথা বলার অনেক সময় পাওয়া যাবে তাহলে। ধানমন্ডি সাতাশ পুরোটা আসলাম, কোন উত্তর পেলাম না। কান্না আসছিল।
মানিক মিয়া এভিন্যু তে আসলাম। বাম পাশ দিয়ে আসছি…

রাস্তার পাশে কিছু বেশ্যা। দুই জন দেখলাম, ছোট। আমার সমবয়সী। কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেলাম, আমার মন খারাপ। তাদের কথা চিন্তা করছিলাম। তারা যেটা বিক্রি করে, সেটার মূল্যমান নির্ধারণ করা সম্ভব না। অথচ খুব কম দামে সেটা বিক্রি করে দেয়। কিসের জন্য?!
উত্তরটা জানার মত মস্তিষ্ক আমার নেই। আসলেই নেই। কত কষ্ট তাদের জীবনে! আমরা শুধু আনন্দটাই দেখি।

মন টা আবার খারাপ হয়ে গেল। তবে এইবার কারন জানি। তাই একটু স্বস্তি পেলাম।
হাঁটতে হাঁটতে সংসদ ভবন এর সামনে চলে আসলাম। অনেক হেঁটে ক্লান্ত। তাই ধীরে ধীরে হাঁটছিলাম। অনেক ছেলে মেয়ে তাদের প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে পাশে বসে গল্প করছে। দুইজন দেখলাম, একজন আরেকজনের ঘাড়ের উপরে মাথা দিয়ে এবং দ্বিতীয় জন প্রথম জনের মাথার উপরে মাথা হেলান দিয়ে বসে আছে চুপচাপ।

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল। এবারও কারন জানি। রিমার কথা মনে পরে গেছে। আগে জানতাম না, ও কোথায় থাকে। এখন জানি। শান্তিনগর। একদিন গিয়ে দেখা করা যেতে পারে। গিয়ে দেখব, কখন কোচিং থেকে বের হয়। তারপর হঠাৎ একদিন সামনে গেলাম।

আরে! রিমা যে! তুমি এখানে! কি কর? কোথায় কোচিং কর?
এইতো। রেটিনা।
ধুর! অটার থেকে প্রাইমেট ভালো ছিল। ওখানে পড়া ঠিক না।
কেন?
বুঝবানা। আচ্ছা। বাদ দাও। তোমার তো অবস্থা খারাপ! ঘেমে টেমে একাকার! এখনও আগের মত নাক ঘামে! নাক ঘামাটা ভালই লাগছে। চলো… আশেপাশে কোথায় বসি। আমি তো এখানে থাকি না। কোথায় বসা যায়, বলত?
না। বসব না। এখন বাসায় যাব।
উহুম। হবে না। এই প্রথম তোমার সাথে আমি কথা বলতেছি। আজ তোমাকে আমার সাথে বসে খেয়ে যাতে হবে।
বাসায় যেতে হবে। না হলে চিন্তা করবে।
আমি কি তোমাকে বলছি যে, বাসায় যেতে দিব না? একটু পরে যেও।
দেরি করলেও চিন্তা করবে।
করুক। একদিন একটু চিন্তা করুক।
দেখ, এরকম করো না।
করবো।
আমাকে ডিস্টার্ব করতেছ। আমি কিন্তু চীৎকার করবো।
জানি, করবে না।
কীভাবে?
লজ্জা পাবে।
পাব না।
কেউ আমাকে কিছু বলবে না। আমি বলব, ওর রাগ ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছি। একটু হেল্প করেন না ভাই।
আমি বলব, ওকে আমি চিনিই না।
তুমি পারবে না। পারলে ডেকে দেখাও।
সত্যিই দিব কিন্তু। তুমি এখান থেকে যাও অথবা আমাকে বাসায় যেতে দাও।
হবে না। তুমি বরং লোকজন ডাকো। সবাই এসে আমাকে মারুক। আমি চুপচাপ থাকব। তারপর বাসায় গিয়ে তুমি শুধু ভাববে, তোমার জন্য আমি মার খেলাম। আহা! তারপর আমার প্রেমে পরে যাবে।
আমার বয়েই গেছে।
বাংলা সিনেমায় এরকমই হয়।
ধুর! তুমি যা খুশি করো। আমি যাচ্ছি।
চলো।
মানে কি?
চলো… তোমার বাসায় যাব তোমার সাথে সাথে।
না প্লীজ দেখ, এরকম করো না।
আমি কখনও করেছি? আজই তো প্রথম করছি। চলো না একটু। বসি?
বেশীক্ষণ কিন্তু বসতে পারব না।
আচ্ছা চলো।
কোথায়?
আমি জানিনা তো। এদিকে কিছু চিনি না।
চলো, অই দিকে একটা ক্যাফে আছে।
চলো।

তারপর আমরা বসব। গল্প করবো। আমার ভালবাসার কথা কখনও ওকে জানাতে পারিনি। সব জানাব। রিমা অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে। চোখ জ্বলে টলমল করবে। বাম চোখ দিয়ে হয়ত এক ফোঁটা গরে এসে গালে আটকে যাবে। টিস্যু পেপার দিয়ে নাক মুছতে ভুলে যাবে।
আর আমি ওর ঠোঁটের উপরে বাম পাশের তিলটার দিকে তাকিয়ে থাকব। কখনও ওর গালে জলের ফোঁটা দেখব। হঠাৎ ভুল করে ওর চোখের দিকে আমার চোখ যাবে। ও তখন আমার দাকিয়ে তাকিয়েই থাকবে। আমিও তাকিয়ে থাকব। তখন গালে আটকে যাওয়া জলের ফোঁটা টেবিলের উপরে পরবে। ডান চোখ থেকে এক ফোঁটা বের হবে হবে করবে। আমি আমার হাতের উল্টা পিঠ দিয়ে সেটা মুছব। গ্লাসের ভিতর থেকে টিস্যু পেপার নিয়ে ওর নাকটা মুছে দিতে যাব। ও পেছন দিকে সরে যাবে। তারপর নিজে নিজে মুছবে। মুছে আমার হঠাৎ ভীত চোখের দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে একটা হাসি দিবে। ফিক করে দেওয়া হাসি বলে একে।
তারপর?
তারপর ও উঠে এসে আমার পাশে বসবে। তারপর আমার ঘারে মাথা রাখবে। আমি ওর মাথার উপরে আমার মাথা রাখব। তারপর চুপচাপ থাকব। তখন মনে হবে, ওকে বুকের ভিতর ঢুকিয়ে বেধে রেখে দেই যাতে উরে যেতে না পারে। হারিয়ে না যায়। কেউ নিয়ে যেতে না পারে। ওকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করবে। কিন্তু আমি লজ্জা পাব। অথবা ভাবব, হয়ত ও লজ্জা পাবে।
তারপরে… অনেকক্ষণ পরে
আমরা উঠবো। চলে যাওয়ার জন্য। ও লাল মুখে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকবে। মাঝে মাঝে লজ্জাবতীর মত আমার চোখের দিকে তাকাবে আর আবার চোখ নামিয়ে নিবে।
যাওয়ার সময় ওকে খুব ভীত মনে হবে। মনে হবে, খুব অস্থির। বারবার ভীত চোখে আমার দিকে তাকাবে। হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরবে। ধরে বলবে, কখনও আমাকে ছেড়ে যাবে না তো?
আমিও ওকে জড়িয়ে ধরে থাকব। মনে হবে, আমার বুক চিরে ওকে ভিতরে পরম নিরাপদে রেখে দেই। আমার প্রশ্ন ও আমাকেই করেছে।
আমি ওকে সামান্য দূরে ঠেলে দিয়ে হাত দিয়ে ওর চিবুক ধরে আমার দিকে চোখ আনাব। তারপর আমি ওর চোখের দিকে আর ও আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
আমিও তাকিয়েই থাকব। ওও তাকিয়েই থাকবে। আমাদের দুইজনের প্রশ্নের উত্তর দুইজনেই পেয়ে যাব। তারপর আমাদের ভীত চোখে নিশ্চিন্তের ছাপ পরবে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/amimulehshan/31798.html



মন্তব্য করুন