এহসান-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

হয়ত ভালোবাসা!

লিখেছেন: এহসান

মিথিলা?
হুম। বল?
আজ ফ্রি আছ?
হুম।
তাহলে চল, আজ সারাদিন হেঁটে বেড়াই।
তোমার হাঁটতে খুব ভালো লাগে। না?
হুম। অনেক।
আচ্ছা। চল। কখন কোথায় আসব?
সকাল দশটায় শাহবাগে।
আচ্ছা।
আমি ফোন ছাড়া বের হব। তুমিও ফোন ছাড়াই এসো। ছোট জগৎ থেকে বিছিন্ন হয়ে বড় জগতে চলে যাব। না হলে ওই ছোট জগৎ টা শুধু ডাকবে।
ওকে ডিয়ার
আই লাভ ইউ
হুহ্‌! আই হেট ইউ
কেন?
আমার ইচ্ছা।
আচ্ছা।
অঙ্কুশ আসার পর মিথিলা বলে,
পনের মিনিট লেট।
আমি আগেই এসেছিলাম। তোমাকে দেখে আড়ালে গিয়েছিলাম।
কেন?
তোমার সামনে আসতে একটু একটু ভয় করছিল। তাই একটা সিগারেট খেয়ে আসলাম। তোমার সামনে তো আর সিগারেট খাওয়া যায় না। না?
হুহ্‌! তুমি সিগারেট খাও? আমাকে মিথ্যা বলেছিলে?
মিথ্যা বলব কেন? বলেছি, খাই না। খেতে পারি না, এমন কিছু তো বলিনি।
হুহ্‌!
হিহিহি
আবার হাসো কেন? দাঁত ভেঙ্গে দিব?
আই লাভ ইউ
হুহ্‌!
চল, চা খাই।
চা খাব না। সিগারেট খাব।
কি!!! তুমি সিগারেট খাবে?
তুমি পারলে আমি কেন পারব না?
না মানে, ইয়ে
কোন কথা হবে না। আমিও খাব।
তুমি খাবে না।
কেন খাব না?
তুমি খেলে সমস্যা আছে।
কি?
তাহলে এক সাথে দুইটা বাচ্চা হবে না।
আমাকে বাচ্চা পেয়েছ যে যা বুঝাবে, তাই বুঝব? আমি খাব।
আচ্ছা। আমি আর খাব না। সরি।
হুহ্‌!
সরিইইইইইইইইইইইইই
ওকে ওকে। চল এখন হাঁটি।
কোথায় হাটবে? নাকি রিক্সায় যাবে?
রিক্সায় কেন? বদ মতলব?
ছিঃ! ছিঃ! কি বল! আমাকে এই চিনলে এই কদিনে?
হুহ্‌! তুমি তো প্রতিদিন একজনের উপর ক্রাশ খাও।
এখন তো আর খাই না।
আমি কোন ছেলেকে বিশ্বাস করি না।
আমিও।
কেন?
কারন আমি ছেলে। আর আমি জানি ছেলেদের সম্পর্কে।
হুম। আসলে মেয়েদেরও বিশ্বাস করা যায় না।
সেটাও জানি।
কিভাবে? তুমি তো ছেলে!
তুমি যে বললে। সেজন্য জানি।
আমাকে বিশ্বাস কর?
যাকে ভালোবাসা যায়, তাকে বিশ্বাস করাই যায়।
আমাকে কতটা ভালবাস, তার প্রমাণ দিতে পারবে?
না।
কেন? বাস না?
বাসি। তবে প্রমাণ দিয়ে দেখাব, তোমাকে ভালোবাসি, ওই টাইপ ছেলে আমি না। তুমি এমনিতেই বুঝে যাবে আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। এখন খুব বেশী দেরি করে না ফেললেই হয়!
কিভাবে এতো সিউর হচ্ছ?
আমি সিউর । কারন, আমি জানি আমি তোমাকে ভালোবাসি।
শাহবাগ থেকে হাঁটতে হাঁটতে ওরা টিএসসি চলে আসলো। মিথিলা বলল,
অঙ্কুশ?
হুম। বল।
একটা রিক্সা নাও।
রিক্সা করে কোথায় যাবা?
জাহান্নামে।
একটা রিক্সা দেখে অঙ্কুশ বলল,
এই রিক্সা, জাহান্নামে যাবা?
রিকশাওয়ালা অঙ্কুশের দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন অঙ্কুশ বুধ গ্রহ থেকে আসা কোন এলিয়েন।
মিথিলা হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে অঙ্কুশের হাত ধরল। তবে অঙ্কুশ বা মিথিলা কারুরই মনোযোগ অইদিকে গেল না। মিথিলা অঙ্কুশের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
এসো আমার সাথে। বুদ্ধু!
কোথায়?
আকাশে।
রিক্সা আকাশে কিভাবে যাবে!
রিক্সায় না। হেলিকপ্টারে যাব।
ও আচ্ছা। চলো।
ওরা একটা রিক্সা নিয়ে উঠে পরে। দুজনেই চুপচাপ। কেউই কথা বলছে না। তবে চোখ দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে দুই জনেই কথার রাজ্যে কথা খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কোন কথা পছন্দ হচ্ছে না। অঙ্কুশ বাসায় থাকলে সব সময় ভাবে মিথিলার যদি পাশে থাকে তবে এটা বলবে, ওটা বলবে। এখন কিছু মাথায় আসছে না।
বেচারার অবস্থা থেকে মিথিলার প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছে এখন। অঙ্কুশের দিকে তাকায়নি। তবুও বুঝতে পারছে এখন ওর মুখের অবস্থা কেমন! কেমন কুঁকড়ে আছে। রিক্সার এক কোনায়। রিক্সায় কোন ঝাঁকুনি হলে ও যেন লোহার মতো শক্ত হয়ে যায় যাতে ওর গায়ের সাথে মিথিলার গা লেগে না যায়! মিথিলার মজা করতে ইচ্ছা করছে এখন। ওর দিকে একটু চেপে বসলে কেমন হবে? ও চাপতে চাপতে রিক্সা থেকে পরেই যাবে! হাহাহা!
আর না পেরে জোরেই হেসে দিল। রিক্সাওয়ালাও অবাক। এতক্ষণ ধরে চুপচাপ থাকার পরে হঠাৎ এই হাসি!
অঙ্কুশ ও অবাক। মিথিলা হাসছে। অঙ্কুশ মিথিলার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অঙ্কুশ অবাক ওর এতো সুন্দর হাসি দেখে! একটা মানুষ এতো সুন্দর কিভাবে হাসে? এই প্রথম অঙ্কুশের মনে হচ্ছে, মিথিলা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী সুন্দর। ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা যায় সারাটা দিন। অথবা চিরটাকাল!
মিথিলা সম্বিত ফিরে পেতেই ওর খেয়াল হল, অঙ্কুশ ওর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে! একটু লজ্জা পেল। গালটা গোলাপী মতো হয়ে গেল। অঙ্কুশ আরও অবাক হয়ে গেল! আর মিথিলা ভাবছে, ছেলেটার চোখ এতো সুন্দর কেন! আগে কখনও ওর চোখের দিকে এভাবে তাকানো হয়নি।যদিও এখন ওর দিকে তাকিয়ে নেই। তবে আড় চোখে দেখছে, ও চোখ ফিরিয়ে নিলে মিথিলা ওর চোখের দিকে তাকাবে। কিন্তু ফিরিয়েই নিচ্ছে না। নিশ্চয় ঘুমিয়ে পরেছে! হাহাহা! এবার মুখ টিপে হাসল।
রিক্সা প্রচণ্ড একটা ঝাঁকুনি খেল আড় মিথিলা তাল সামলাতে না পেরে অঙ্কুশ এর বাহু ধরে ফেলে। অঙ্কুশ এতক্ষণে সম্বিত ফিরে পেল। লজ্জায় সোজা সামনে তাকাল। মাঝেমাঝে আকাশের দিকে তাকাচ্ছে। ভাবছে, কি বলা যায়। এভাবে তো চুপ থাকা যায় না! মিথিলাটাও কিছু বলছে না। মিথিলা ওর এই অবস্থা খুব উপভোগ করছে।
আকাশ মেঘ করে এসেছে। এসময় কখন বৃষ্টি হয়, তার ঠিকঠিকানা নাই। অঙ্কুশ মুখ থেকে বের হয়ে গেল,
আজ বৃষ্টিতে ভিজবে?
বৃষ্টি কই যে ভিজব?
আসবে মনে হচ্ছে।
আসলে দেখা যাবে।
আচ্ছা।
হু। ভিজব।
রিক্সাতেই?
তাহলে কি ছাতার নিচে?
না মানে বলছিলাম,
তোমাকে কিছু বলতে হবে না।
দেখতে দেখতে বৃষ্টি চলেই এল। দুজনেই চুপচাপ আছে। মিথিলার চোখ দিয়ে পানি বেরুচ্ছে। কোন কারন ছাড়াই। ও ওর প্রিয়জনের সাথে বৃষ্টিতে ভিজছে। এটা কারন হতে পারে। তবে এই প্রিয়জনকে কখনও ভালোবাসি বলা হয়নি। ভাবছে, আজ বলবে।
চোখের জলে এমন কিছু আছে যা ঝুম বৃষ্টির মাঝেও আলাদা করা যায়। অঙ্কুশ হঠাৎ জিজ্ঞাস করল,
কাঁদছ কেন?
চলো এক কাজ করি।
কি?
তুমি আমাকে ফ্রেন্ড ভাববে। তবে আমি জানব, আমি তোমাকে ভালোবাসি…
ওকে।
অঙ্কুশ?
হুম? বল।
আই লাভ ইউ।
বাট আই …
কি? আমার মতো হেট বলবে?
হুম।
হুহ্‌! বল দেখি।
আই লাভ ইউ ইউ টু।
পর্দার আড়ালেঃ যখন গল্প লিখছিলাম, মানে যখন বৃষ্টির অংশটুকু শুরু করছিলাম, বাহিরে বৃষ্টির শব্দ শুনতে পেলাম। আমার কানকে বিশ্বাস হচ্ছিল না। ভাবলাম, হয়ত হ্যালুসিনেশন ট্যালুসিনেশন হবে। তবুও জানালা খুলে বাহিরে তাকালাম। সত্যি আমার চোখকেও বিশ্বাস হচ্ছিল না!
তারপর ছাদে গিয়ে ভিজে এসে বাকিটা লিখলাম।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/amimulehshan/31764.html



মন্তব্য করুন