আমি বেয়াদব-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

স্বাধীনতার ৪২ বছর : মুক্তি কতদূর!!

লিখেছেন: আমি বেয়াদব

দেখতে দেখতে আজ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ৪২ বছরে পা রেখেছে। প্রায় সাড়ে তিন যুগ, সময়ের হিসেবে যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য কোনভাবেই কম নয়। এই সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা অর্জন, রক্ষা ও একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এ পর্যন্ত কতসাগর রক্ত ঝরল, কত মায়ের বুক খালি হল, কত আদমি ‘নাই’ হয়ে গেল, কত সংখ্যক আশরাফুল মাখলুকাত ধুঁকে ধুঁকে মরল; এ ধারা আজও অব্যাহত। তবু আজও কি এ জাতির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও সামগ্রিক মুক্তি অর্জিত হয়েছে? দেশবাসী চরম হতাশ; কিংকর্তব্যবিমূঢ়! সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত সত্তর দশকের কথা না হয় বাদই দিলাম। আশির দশক কেটেছে সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেই নব্বই দশক থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর কাছ থেকে আমরা কী পেলাম? আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?

বর্তমান চরম অস্থিতিশীল ও নির্মম আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে জীবনের সর্বক্ষেত্রে মুক্তির প্রশ্নটি জনসাধারণকে ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা স্বাধীন বটে; কিন্তু কোন্ অর্থে স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন? আমাদের ভূখণ্ড ’৭১-র পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে ৪১ বছর আগেই মুক্ত হয়েছিল এবং তখনই বিশ্বের মানচিত্রে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের একটি ‘স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যধারী ভূখণ্ড’ বাংলাদেশ নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। তখনই একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন জাতিসত্ত্বা হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলাম। বিশ্বের কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি এখনও পাচ্ছি। কিন্তু আজও কি আমরা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি? আজ বাংলাদেশের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যে চূড়ান্ত হুমকির মুখে এটা উপলব্ধি করতে গবেষণার দরকার হয় না। প্রবাদ আছে : স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। আলেম, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সুশীল সমাজ, তরুণ প্রজন্ম সবাই একমত- আমাদের আরেকটি ‘স্বাধীনতা’ অর্জন করতে হবে। যে স্বাধীনতা প্রকৃত অর্থে ১৬ কোটি মানুষকে জীবনের সকল পর্যায়ে মুক্তির পথ দেখাবে।

আমাদের আজকের গভীর রাজনৈতিক সংকট ও আর্থ-সামাজিক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সাক্ষ্য দেয় যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে আমরা সম্পূর্ণ পরাধীন। অথচ সার্বিক মুক্তি ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন। আমরা আজও দারিদ্রের বেড়াজালে বন্দি; ‘মানবজীবন’ সম্পর্কে অজ্ঞতা-মূর্খতার অন্ধকারে বন্দি। সর্বোপরি মানসিক সংকীর্ণতা, অপসংস্কৃতির দাসত্ব, ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস এবং বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক তথাকথিত আস্তিক-নাস্তিক, বাঙ্গালি-বাংলাদেশি, ধর্মনিরপেক্ষ-সাম্প্রদায়িক ‘তত্ত্বে’ বন্দি; এসব বিভাজনে, সংঘর্ষে, সংঘাতে লিপ্ত। ব্যক্তিগত-পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুনে প্রতিনিয়ত জ্বলে-পুড়ে ছারখার হচ্ছি আমরা প্রত্যেকেই। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা এই রুগ্ন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি ঘটবে কবে? তা আর কত দূর!

এক্ষেত্রে প্রথমেই বলা দরকার, কেবল নির্বাচনের নাম গণতন্ত্র নয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও বর্তমান রোগাক্রান্ত রাজনীতির মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে মুক্তি অর্জন অসম্ভব। নির্বাচনের নামে ক’বছর পরপর জনগণের কোটি কোটি টাকা লোটপাট ও অপচয়ের বিষয়টিও নতুন করে ভাবতে হবে। তাছাড়া একজন প্রার্থী যাদের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, সেই ভোটারদের সামগ্রিক কল্যাণ চিন্তা না করে নিজ পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া ও কামনা-বাসনা পূরণ করা জনপ্রতিনিধির কাজ নয়। এই কামনা যা প্রাপ্তির অনুকূলে ক্রমশ বাড়তে থাকে। আল্লাহও মানুষকে ‘দিয়ে’ সন্তুষ্ট করতে পারেননি, মানুষ পারবে কিভাবে? প্রতিটি মানুষের অন্তরে যে অসীম চাহিদা বিরাজমান তা পূরণের ব্যবস্থা অন্তত এ পৃথিবীতে নেই। অর্থনীতিতে একটা কথা আছে, “মানুষের চাহিদা অসীম, কিন্তু প্রয়োজন সীমিত। বস্তুগত সম্পদও সীমিত। সুতরাং বস্তুগত সম্পদের দ্বারা মানুষের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়, তবে প্রয়োজন পূরণ সম্ভব। সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনি-গরিবের ব্যবধান কমিয়ে জনগণের একান্ত চাহিদা অবশ্যই নিশ্চিত করা যায়।” শুধু তাই নয়, আমি বিশ্বাস করি একটি সুশিক্ষিত ও প্রজ্ঞাবান সরকারের মাধ্যমে সুশাসন, সুশিক্ষা ও প্রকৃত জ্ঞানের আলোকে সমাজের সবচেয়ে অসহায়, দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষটির জীবনেও শান্তির সুব্যবস্থা করা সম্ভব।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা নিজেরাই অসীম কামনা-বাসনা ও ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসের পেছনে অন্ধের মত ছুটছেন। এরা জানেন না এদের চাওয়ার শেষ কোথায়। শিক্ষা, জ্ঞান, শান্তি ও মানসিক শক্তি চর্চার কোন প্রচেষ্টা নেই। আছে শুধু রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ইত্যাদি বস্তুগত উন্নয়নের বায়বীয় প্রতিশ্র“তির প্যাকেজ। এসবের সাথে মানুষের অন্তরের মৌলিক চাহিদা ‘শান্তি’ প্রাপ্তির সমন্বয়ের পদক্ষেপ নেই।

আমাদের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে যে আমরা আসলে কী চাই, কতটুকু চাই। শুধু বাংলাদেশ নয়, দুনিয়াজুড়ে আজ আরবের সেই জাহেলি যুগের মারামারি, কাটাকাটি, অবিশ্বাস, সংশয় ও বিতর্ক হু হু করে বাড়ছে। একদিকে উন্নত বিশ্ব ভোগবাদের অন্ধকারে নিমজ্জিত (অথবা মোটাদাগে বললে প্রতিটি দেশেরই বিশেষ একটা শ্রেণি), অন্যদিকে শান্তির জন্য হাহাকার করছে সমগ্র মানবজাতি। তাই পৃথিবীবাসী আজ এমন একটি জীবনব্যবস্থা চায়, এমন একটি শাসন-পদ্ধতি চায় যার মাধ্যমে কারও ক্ষতি না করেই সবার নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষিত হবে এবং সামগ্রিক শান্তি নিশ্চিত হবে। বর্তমানে ঘটছে এর উল্টো। সমাজে বসবাসকারী প্রায় প্রতিটি মানুষ জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না রাখার কারণে বাহ্যিক চাকচিক্য ও ক্ষণস্থায়ী সুখ-ভোগের যে স্বপ্ন দেখে, একে পুঁজি করে তথাকথিত গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মায়াজাল সৃষ্টি করে ভোট ভাগিয়ে নেয়, শক্তি প্রদর্শন করে ভয় দেখায় এবং প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে অসহায়-দুর্বলদের প্রভাবিত করে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে কালো টাকা দিয়ে কিছু সমাজসেবামূলক কাজ করে। যে কোনো মূল্যেই হোক, লক্ষ্য লক্ষ্য ভোট পেতেই হবে, পরে যা হবার হবে- এই মানসিকতার কারণে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব দ্রুত বাড়তে থাকে।

কি সমাজ কি রাষ্ট্র সর্বত্রই এখন সবল দুর্বলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, আর দুর্বল নির্যাতিত নিপীড়িত হয়ে হতাশা, অভাব ও আত্মগ্লানীতে তিলে তিলে ধ্বংস হচ্ছে। বিশ্বের দেশে দেশে এই দুর্বলের সংখ্যাই শতকরা নব্বই ভাগ। সবলের সংখ্যা মাত্র দশ ভাগ। অথচ সংখ্যার বিচারে নগণ্য এই দশ ভাগ ‘শক্তিধররাই’ বারবার ক্ষমতায় আসছে। তাও আবার বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্যাতিত নিপীড়িত দুর্বলের ভোটে। অবাক করা কাণ্ড বটে! কিন্তু সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকালে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটা তথাকথিত গণতন্ত্রের (জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার এবং জনগণই সকল শক্তি ও ক্ষমতার উৎস) কারসাজি। মূলত সমাজের সামান্যসংখ্যক উপরতলার মানুষের বেঁধে দেয়া নিয়মের বাইরে যওয়ার ক্ষমতা জনগণের নেই। প্রচণ্ড দুঃখ, ক্ষোভ ও অনিচ্ছা সত্ত্বেও জনগণ কেন বারবার তাদের ভোট দেয়? কারণ এছাড়া উপায় নেই। তাই ঘুরেফিরে মুষ্টিমেয় দুর্নীতিবাজ ও অসৎ লোকের কাছেই জনগণকে আশ্রয় নিতে হয়। একটুখানি সুখ-সমৃদ্ধ জীবনের আশায় অসহায় জনগণ বারবার তাদেরই ভোট দেয়। জনগণ জিম্মি। নতুন প্রজন্মের জানতে ইচ্ছে করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বলে যদি কিছু থাকে, তবে সেটা কী!

আমরা যাদের দুর্বল বলে গণ্য করি, তারা কি আসলেই দুর্বল? আর যাদের সবল বলি তারা সবল? কখনোই না। এটা কেবল একটা সামাজিক ভ্রান্ত ধারণা। এরকম হাজারো ধারণা সমাজে প্রচলিত যা শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো দিয়ে দূর করা সম্ভব। সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেবে দুর্বলদের শক্তি অনেক বেশি। কষ্ট ও পরিশ্রমের ক্ষমতাও বেশি। তাছাড়া মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। এই মানুষগুলো সহজ-সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত। ব্যক্তিগত উচ্চাকাক্সক্ষা সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত। তবু ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক অন্তর্দ্বন্দ্ব-কলহ থেকে এরাও বাঁচতে পারে না। অশান্তির কালো ছায়া তাদের জীবনকে গ্রাস করে। তার উপর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, পরিবার ও সন্তানাদির উপর অপসংস্কৃতির প্রভাব, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি বিষয়গুলো তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

প্রকৃতপক্ষে সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক শ্রেণীর বিশাল জনগোষ্ঠীর মুক্তিই দেশের মুক্তি। কিন্তু দুখেঃর বিষয়, এদের পুঁজি করে মুষ্ঠিমেয় লোক নিজের আখের গোছায়। সত্যিকার অর্থে সাধারন জনগণের জন্য কিছু করার মানুষ দুর্লভ। তাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে ফলপ্রসু ও প্রয়োজনীয় বিষয় হতে পারে শিক্ষা ও জ্ঞানের জাগরণ; জ্ঞানগত বিপ্লব। এই দায়িত্বটা যদিও সরকারের, কিন্তু সরকারের অপারগতায় সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক দল, সংঘ-সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের বিশাল অংশ স্বেচ্ছায় এই দায়িত্বটা নিঃস্বার্থভাবে নিতে পারে। আমার মনে হয় দুর্বলের ‘ক্ষমতায়ন’ মুখ্য নয়, দুর্বলের ‘শক্তি ও যোগ্যতার বিকাশই’ মুখ্য। দুর্বলদের শিক্ষিত, সচেতন ও জ্ঞানী করে তোলা অপরিহার্য। তাহলেই দেশ ও সমাজের সর্বস্তরে পরিবর্তন আসবে, এমনকি রাজনীতিতেও। আর এটাই বিপ্লবাত্মক অথচ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জনগণকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রয়োজন নেই, বরং সবার মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্কই কাম্য।

মানুষ মাত্রই শান্তির প্রত্যাশী। সবল-দুর্বল, শাসক-শাসিত, শ্রমিক-মালিক, ধনি-গরিব সবাই সত্য, শান্তি ও কল্যাণের মুখাপেক্ষী। মূলত আজকের যত সমস্যা, যত দ্বন্দ্ব-ফেৎনা সব জ্ঞান ও সুশিক্ষার অভাবের কারণেই। সার্বিক মুক্তির পথ একটাই, সর্বজনীন শিক্ষা ও জ্ঞানের বিস্তার। মানুষ মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, বিপরীতমুখী শক্তির আধার। একই সাথে সবচেয়ে দুর্বল এবং সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। মানুষের দুর্বলতার মাত্রা তার গঠনকালে মায়ের গর্ভে, জন্ম-পরবর্তী কয়েক বছর, বৃদ্ধাবস্থায় ও মৃত্যুকালে দেখানো হয়। যৌবনেও প্রতিটি মানুষই মাটি, পানি, আলো, বাতাস, আকাশ, গাছপালা, শ্বাস-প্রশ্বাস, হজমক্রিয়া- এসবের সার্বক্ষণিক মুখাপেক্ষী। অথচ এগুলো মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। মানবজাতি প্রতিমুহূর্তে সমস্ত সৃষ্টি বা প্রকৃতির প্রতি একযুগে নির্ভরশীল। আবার মানুষের শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণও আজকের বিশ্বে প্রকাশিত। মানুষের হৃদয় অসীম শক্তির আধার। যেকোনো আঘাত, যেকোনো বিপর্যয় হজম করার, স্থির থাকার এবং সর্বপ্রকার অশান্তির মোকাবেলায় দাঁড়াবার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে। সুতরাং সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যমে সার্বিক মুক্তি অর্জন অবশ্যই সম্ভব।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/amibeadob/25134.html



মন্তব্য করুন