আলী হোসেন বিদ্যুৎ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় ও আমাদের দেশীয় সাংস্কৃতি প্রীতি!!!

লিখেছেন: আলী হোসেন বিদ্যুৎ

,ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় এক রকম আঘোষিত ধারনা করে তৈরী ও সেখানে ছেলে-মেয়েদের পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিলো ইংরেজি শিখে,তারা আমাদের শিল্প-সাহিত্য,ইতিহাস-ঐতিহ্য গর্বের সাথে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে।কিন্তু এখন তারা নিজেরাই ইংরেজ-আমিরিকান হচ্ছে কিংবা তাদের স্কুল তাদের বানাচ্ছে।
এক ইংরেজি মধ্যম স্কুলে পড়ুয়া মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,তুমি কি গান পছন্দ কর?-ইংরেজি আর হিন্দী,সে উত্তর দিয়েছিল।আবার জিজ্ঞেস করলাম,বাংলা?কখনো শুনেই দেখেনি। নিজের সম্পদের উপর এরকম অবহেলা করে তারা কি শিখছে,নিজ জাতিকে ঘৃনা ছাড়া?
ইংরেজি মাধ্যম ইস্কুলের অনুষ্ঠানগুলোও পশ্চিমা ধাচের।বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয় পশ্চিমা রং ঢং মেখে!স্কুল পোশাকেও তার স্পষ্ট ছাপ থাকতে হবে।শুধু পোশাকই না,অনেকের খাবার-দাবারে ফাস্টফুট ডুকিয়ে দেয়া হয়েছে।ওই সব স্কুলের ক্যান্টিনগুলোতেও কোন দেশী খাবারের আয়োজনই নেই।এসব বাচ্চারা বাসায়ও ভাত খায় না,মাছ খেতে ঘৃণা করে।সবজি যেন তাদের চোখের বিষ। অর্থাৎ,ইংরেজি ভাষা শেখর থেকেও ইংরেজ হওয়ার প্রবনতা তাদের মধ্যে অনেক বেশি।
বাংলা সাহিত্য,বাংলা গান,বাংলা টিভি নাটক-সিনেমা যেন তাদের এক মহা অবজ্ঞার বিষয়।এগুলো যেন শুধু গরিব-আর ফকির মিসকিনদের জন্য,তাদের জন্য না।
এটুকু পড়ে অনেকেই ভাবছেন ,আমি হয়ত প্রচন্ড সনাতন মনোভাপন্ন একজন ইংরেজি বিদবেষী।আসলে,সেরকম কিন্তু না।আমাকেও ইংরেজে শিখতে হয়েছে।তাদের মত অত ভাল মানের হয়ত না।আমাকে কিন্তু ইংরেজ হতে হয়নি।
আমার ক্ষোভ সেখানেই,আমি অন্য একটা ভাষ শিখছি মানে,সেই ভাষা-ভাষী দেশের দাসত্ব করে,সেই ভাষায় আমার কৃতিত্ব জাহির করতে হবে,কেন এই দেউলিয়া পনা?আর নিজের মাতৃভাষয় যারা সুন্দর করে কথা বলছে তাদেকে নীচু মনে করা।আচ্ছা ইংরেজি কি এখন শুধু ইংরেজদের বা আমেরিকানদের ভাষা,আমরা নির্লজ্জভাবে তাদের দাসত্ব করে যাব?ইংরেজি বিশ্ব-জনীন ভাষা।আমি আমার মত করে উপস্থাপন করব,তাতে লজ্জার কি আছে?
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী আর এফ এম রেডিও জোকিরা যেভাবে বাংলিশ হিন্দীশ এক ধরনের জোকার ভাষা ব্যবহার করছে,তাতে মনে হয় যারা প্রকৃত উচ্চারণে বাংলা বলেন তারা সেকেলে ভোদাই।বাংলা উচ্চারণ গুলো তারা ইংরেজি ধারায় উচ্চারণ করেন।কখনও কখনও তারা এই বিষয়ে ইংরেজদের ছাড়িয়েও যান।
একদিন এক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট ভাই আমাকে এসে বলল,”বিড্যুট ভাই ক্যেমন আসেন?”লজ্জায়,ঘৃণায় আর ক্ষোভে আমার নাক-মুখ লাল হয়ে গেল।এগুলো কিন্তু বিক্ষিপ্ত,উদাহরণ না।
আমি অনেক আমেরিকা -ইউরোপে বসবাসকারী বাঙ্গালীদেরকে আমি চিনি।তারা সেখানে খুবেই প্রতিষ্ঠিত।কেউ কেউ প্রকৌশলী,চিকিৎসক,শিক্ষক এবং গায়ক-গাইকা।আবার তাদের মধ্যে অনেকে ছোট থেকেই সেখানে আছেন,সেই পরিবেশে মানুষ হয়েছেন।কিন্তু,তাদের কাউকেই আমার অবাঙ্গালী মনে হয়নি কখনো।
আথচ,এই দেশে এই মাটিতে বসবাস করে,আমারা নিজের তৈরী করা গন্ধে নিজেরাই নিজেদের গায়ে থুতু চিটাই।বেড়ের ওপাশের ঘাসগুলোকে বেশি সবুজ মনে করে।গরুর মত নিজের জাগায় পায়খানা করি।
আমাদের ভাষ শহীদেরা কেউ যদি এসব ন্যাকামী মার্কা অত্যাধুনিক ভাষার ব্যবহার দেখেন।আমি নিশ্চত তারা আবার আত্নহত্যা করতে চাইবেন। যেদেশের পূর্বসূরীরা তাদের মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্য তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছেন।তাদের উত্তরসূরীদের এমন নির্লজ্জ।আত্নবিসর্জন বা সমর্পণ কি করে মানা যায়?
আচ্ছা,ইংরেজি কি এখন শুধু ইংরেজ বা আমেরিকানদের ভাষা যে,আমরা তাদের দাসত্ব করে বেড়াব? ইংরেজী শেখার জন্য ইংরেজ হওয়া খুবেই জরুরী?তাহলে জন্মের আগেই কোন ইংরেজ নারীর অবৈধ সন্তান হয়ে তার গর্ভে ঢুকে যেতে পারত।
আমি বাংলাদেশী,আমি বাঙ্গালী আমি গর্বিত।
আমি গর্বিত বাঙ্গালী।
- See more at: http://istishon.com/node/5579#sthash.N5GdVWvb.bnVHYBm9.dpuf

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ali-hossain-bidyut/24818.html



মন্তব্য করুন