আলী হোসেন বিদ্যুৎ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

জন্ম উৎসব পালনের ইতিকথা!

লিখেছেন: আলী হোসেন বিদ্যুৎ

আজ আমার জন্ম দিন!১৯৮৮ সালের কোন এক বৃহস্পতিবার আমার জন্ম।আমি যে মূহুর্থে ভূমিষ্ট ঠিক তখনি,আমাদের এলাকায় বৈদ্যুতিক বাতি প্রথম জ্বলে উঠে,সে জন্য আমার এক কাকা আমার নাম রাখেন বিদ্যুৎ।এমন এক শরৎ সন্ধ্যা সেদিন আমাদের বাড়ি আলোকিত হয়েছিল,আমার জন্ম আর নতুন জ্বলে উঠার বৈদ্যুতিক বাল্বে। আমার দাদা মহা-উৎসাহে আযান দিয়েছিলেন।সেই আমার জন্মদিন পালন।

আমাদের দেশে যেভাবে কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হচ্ছে।এর উৎপত্তি আমাদের দেশে না,পশ্চমাদেশে।ধারণা কারা হয়,খৃস্টের জন্মের বহু পূর্ব থেকে জন্মদিন উৎসব হিসেবে পালন কারা হত।পেগান স্বংস্কৃতির লোকেরা অদৃশ্য আত্মাকে ভয় পেত-বিশেষভাবে জন্ম দিনে।তাদের প্রায় সকলেরই বিশ্বাস ছিল যে,এই অদৃশ্য আত্মারা আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে যখন কোন ব্যক্তি তাদের দৈনন্দিন জীবনে কোন পরিবর্তন আসে।যেমন (১)বছর বয়স বাড়া ।তাই ছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে উৎযাপন,যারা হাঁসি-তামাশা করে সে ব্যক্তির চার পাশ ঘিরে রাখত যাতে খারাপ আত্না তার কোন ক্ষতি করতে না পারে। উপহারের পরিবর্তে,পরের বারের জন্মদিন্টা যেন শুভ ও মঙ্গলময় হয় সকলে সেই কামনাই করতেন।
আমাদের দেশে আজকাল একটা বিশেষ রীতিতে পরিনত হয়েছে,৬৯ টি মোম বাতি জ্বালিয়ে ,৬৯ জন পরপুরুষের হাত ধরে,৬৯ রকম প্রসাধনী মেখে,৬৯ বার জন্ম তারিখ পরিবর্তনের পরে ৬৯ পাউন্ড কেক কেটে জন্মদিন পালন করা।

জন্মদিন হচ্ছে পঞ্জিকা অনুযায়ী মানুষের জন্মগ্রহণের দিবস। সাধারণত জন্মবার্ষিকীতে কারো জন্মদিন উৎসবের মাধ্যমে পালন করা হয়। সাধারণত বৎসরের একটি নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট তারিখে শিশুর পক্ষে তাঁর পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন কিংবা ব্যক্তি কর্তৃক উদযাপিত হয় এই দিবসটি। অর্থাৎ, বৎসরের নির্দিষ্ট দিনে জন্মগ্রহণকারী শিশু বা ব্যক্তির জন্ম উপলক্ষে যে আনন্দঘন উৎসব-আয়োজনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, তাই জন্মদিন নামে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণতঃ শিশুদেরকে কেন্দ্র করেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাছাড়াও, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীসহ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরকেও জন্মদিন পালন করতে দেখা যায়। সাড়ম্বর উদযাপন ছাড়াও জন্মদিন উদযাপনের প্রধান মাধ্যম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন।
Birthday celebrations are an intrinsic part of the Western culture; however, the origins of this yearly gala was always linked to mysticism and astrology.

পৌরাণিকিতে জন্মদিনের মাহাত্ম্যঃ
শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে লোক বিশ্বাস অনুযায়ী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই। এ দিনটি জন্মাষ্টমী নামে পরিচিত। ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লা চতুর্থীকে গণেশ চতুর্থী বলা হয়। হিন্দু বিশ্বাসে এই দিনটি গণেশের জন্মদিন।
হিন্দু ধর্মে দ্বাদশ অথবা ত্রয়োদশ বছরে জন্মদিন পালিত হয় ‘পৈত পরিধান উৎসব’ হিসেবে। বয়স পূর্তিতে শিশু একটি বড় সূতার কুণ্ডলী কাঁধের একপার্শ্বে ঝুলিয়ে রেখে পরিধান করে। এছাড়াও, এ উৎসবটি উপনয়ণ নামে স্বীকৃত। হিন্দুদের বর্ণপ্রথায় উচ্চতর বর্ণ হিসেবে ব্রাহ্মণ পরিবারের সংস্কৃতিতে এ উৎসবটি মূলতঃ বালকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
জন্মদিন: ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেঃ
শিশুর জন্মদিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীসহ বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে জন্মদিন পালন করা হয়ে থাকে। ইসলাম ধর্মে এর কোন স্থান নেই। বেদআত বলা হয়েছে জন্মদিন পালনকে। শিশুকে প্রসাধনসামগ্রী ও তিলক-চন্দন দিয়ে সাজানোর পর ধান, দূর্বা ও উলুধ্বনি সহযোগে উজ্জ্বল আলোর পরিস্ফূটন দেখা যায়।

যারা,ইসলাম ধর্মের আস্তিকতার সার্টিফিকেট প্রদানের মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তাদের কি এমন বেহায়ের মত জন্মদিন পালন করা সাজে?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ali-hossain-bidyut/21786.html



মন্তব্য করুন