আলী হোসেন বিদ্যুৎ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ট্রেনে এক রাত্রী !

লিখেছেন: আলী হোসেন বিদ্যুৎ

ট্রেনের কামড়ায় গুটিসুটিহয়ে বসে আছি।অনেক ক্ষন থেকেই গুমোট বৃষ্টি,আষারের এই সন্ধ্যায় একটু শীত শীতও লাগছিল।এই একটু সরে বসুন।আরমোরা ভঙে দেখী একটা মেয়ে আমাকেই বলছে,আমি কি আপনার মাথার উপর বসব?আপনাদের কবি সাহিত্যিকদের এই এক দোষ,মেয়ে দেখলেই ফ্যলফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে হবে।উঠে বসুনতো ।এক নিঃসবাশে বলতে বলতে মেয়েটি আমার পাশে বসে পড়ল।কিন্তু এটাত আ …আমার… কামড়া?আপনার হয়েছে তো কি?বৃষ্টি আর ট্রেন সমান তালে চলতে লাগল।

সিগারেট ছেড়েছেন?-না…ওই বন্ধুদের আড্ডায় পড়লে দু’একটা।কিন্তু আপনি কি…করে জানেন?আমিত আপনাকে দেখেছি বলে মনে হয় না?আমাদেরকে আপনাদের মনে পরতে হয় না।আমরাই মনে করে চলে আসি।আপনি লেখক মানুষ,আপনার খবরতো রাখতেই হয়?কিন্তু,আমারতো এখনও একটা বইও বাজারে বের হয়নি?

আচ্ছা,আপনিতো একটুও রোমান্টিক নন,একটা মেয়েমানুষ পাশে বসা আর উনি,ওই সুদূরে বসা।আমার কি রূপগুন কম?যেন ফিরেও তাকান যায় না?-ভয় আর দবীধায় বললাম,কিসব বলছেন?এগুলো কি ঠিক?দেখুন আমি ভদ্র মানুষ,আপনি দয়া করে নিজের কামরায় যান,আমাকে বিরক্ত করবেন না।”শুনুন একদম ন্যাকামি করবেন না,বসে থাকুন,কত পুরুষ দেখলাম!”একটু উচু সবরে বলল।আমি ঘাবরে গেলাম।

চা খাবেন?আমি ফ্লাক্সে করে নিয়ে এসেছি।মেয়েটার মুখের দিক একবার তাকালাম,অনেক শান্ত মূখবায়ব,মনেই হয় না-এই মেয়েই এতক্ষণ এভাবে কথা বলেছে।-”কি ভাবছেন,চায়ের সাথে কিছু মিলিয়ে টিলিয়ে দিলাম নাকি,তাইতো?আরে মিয়া আপনার সাথে যা আছে তা নিতে আবার কিছু মিলান লাগে না কি?অবশ্য সন্দহ থাকলে খেতে হবে না।”না…আমি মাথা নাড়লাম,তা না।আমি আসলে চা খাই না।-আরে ভারি অদ্ভত লেখকতো আপনি?চা খান না এ মন লেখক আছেন,আজি দেখলাম।হাঁসতে থাকল মেয়েটি।
আরে ধরুনতো,আপনার শীত কমে যারে বলেই চায়ের পেয়ালাটা হাতে ধরিয়ে দিল।অদ্ভুত সবাধের চা।আপনিতো সুন্দর চা বানান?
তো আপনার নামটি কি,কোথায় যাবেন,জানতে পারি কি?-কি হবে আমার নাম জেনে?কত বারইতো আমাদের জেনেছেন কি করেছেন আপনারা?তার পর কাঁদতে থাকল।

শুনুন আমার নাম চামেলী,আমি ঢাকার একটা নামকরা কলেজের ছাত্রীছিলাম।খুব শান্ত,ভদ্র আর ভাল ছাত্রী হিসেবে সবাই জানত।আমি নাচ,গান সব কিছুতেই আমার দখল ছিল।স্কুল থেকেই একটা ছেলেকে ভালবাসতাম।ভিষণ দেখতেছিল ও। পড়াশুনাতে,খেলাধুলায় এমনি সাহিত্য সবংস্কৃতিতেও ভালছিল।তাই অল্প দিনেই আমাদের প্রেম জমেছিল।ওকে আমি ভষণবুঝতে পারতাম।আমরা ঢাকার রবীন্দ্র সরবর,চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক,গুলশান লেক পার্কসহ অনেক রেস্টুডেন্টে ঘুরতাম।একটু থামল,চামেলী।
এর পর একটু উসশুখ হয়ে জানতে চাইলাম।-আমার আর ওর বাড়ির সকলেই জেনে গেল,আমার উপর পাহারা বসানো হল।এর মধ্যেই আমাদের কোনভাবে যোগাযোগ হতে থাকল।এক দিন সিদ্ধান্ত নিলাম ,আমরা পালিয়ে বিয়ে করব।সেদিনো ওর দু’জন বন্ধু সহ,আমার আপনার এই কামরাতেই উঠলাম,বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল।এই কামরাতেই?আমি জিজ্ঞেস করলাম।-হ্যা,এই কামরাতেই।একটু পানি খেয়ে নিল,চামেলী।

জানেন,হঠাৎ একে একে ওরা আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল।আপনার প্রেমীক ও তার সঙ্গীরা?-হ্যা,আমি কখনও চিন্তাও করিনি,যার সাথে সারা জীবন থাকব বলে সবাকিছু ছেড়ে আসলাম,যাকে এত বিশবাস করতাম,ভালবাস্তাম।আপনি চিৎকার করেনি?-ওরা আমার মূখ চেপে ধেরছিল।দুই বার করে ওরা আমার উপর নির্জাতন করে।আমি যখন অচেতন,তখন ট্রেনের জানালা দিয়ে আমাকে ফেলে দেওয়া হয়।

দাদা বাবু,দাদা বাবু উঠুন সকাল হয়ে গেছে।আমরা আপনার গন্তব্যে পৌছে গেছি।-ওপাশ থেকে ট্রেনের এক পরিচিত কর্মীর ডাকশুনে আমি জেগে উঠলাম।সামনেই দেখলাম আমার লেখা একটা ছোট গল্প আর একটা চায়ের পেয়ালা।কামড়া্র দরজাটা ভেতর থেকে লাগানই আছে।স্যুটকেসটা হাতে নিয়ে নেমে পরলাম ভেজা রাস্তায়।তখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি!

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ali-hossain-bidyut/18841.html



মন্তব্য করুন