আলী হোসেন বিদ্যুৎ-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

জব্বার সাহেবের পোলা অইব!

লিখেছেন: আলী হোসেন বিদ্যুৎ

জব্বার সাহেবের স্ত্রী ৪ মাসের সন্তান সম্ভাবা! জব্বার সাহেব ও তাঁর পরিবারের ধারনা তাদের ছেলেই হবে,পরিবারে আনন্দ ধরে না। বট তলায় যে ফকির বাবা এসেছেন তার কেরামতিতে,আল্লাহ্‌ মুখ তুলে তাকিয়েছেন!ফকির বাবার পানি পরাতেইতো কাজ হয়েছে। স্ত্রী বায়না ধরেছ,আত্নীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে একটু ভালো-মন্দ খাওয়াবে। ভাবনা অনুযায়ীই কাজ,আত্নীয় পরিজন এলো,ছেলের নানু বলল বেহান,” আমি কিন্তু আমার নাতির নাম শামচু রাখব আপনি কিন্তু না করতে পারবেন না।”"না না বেহান সাব আমার নাতির নাম হবে রুস্তম।কেমন পালোহান পালোহান নাতি হবে আমার ।”-জব্বার সাহেবের মা দ্বিমত জানালো।শেষে জব্বার সাহেবের শ্বাশুরী না খেয়েই রাগ করে চলে গেলেন,ছেলের নাম হল-রুস্তুম।
জব্বার সাহেবের স্ত্রী বিছানায় গদগদ হয়ে বলল,”আমার ছেলেকে কিন্তু জুলমত আলী খাঁন আর্দশ বিদ্যালয় ভর্থী করাব।” “কী..ই ওই স্কুলে!যেখানে আমি তিনতিন বার পরিক্ষা দিয়ে……………,ওখানে ভর্থী করা যাবে না।এটাই আমার সাফ কথা।আমার ছেলে ভর্থী হবে আজমত আলী স্কুলে!” এ নিয়ে একটা তুলকালাম কান্ড ঘটে গেল ।তবুও সবাই খুশি ছেলেত হবে।-এর পর আবাও বিপত্তি বাধল ছেলে কি হবে তা নিয়ে।ছেলের মায়ের ইচ্ছা তার ছেলে ডাক্তারই হবে।বাবার ইচ্ছা ছেলে হবে আই টি ইঞ্জিনিয়ার।এভাবেই নতুন নতুন সংকটে সমাধানে দিন দিন ছেলে মায়ের গর্ভে বারতে লাগল!

আমাদের সকলের দুদু মিঞ্জা ২৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিলেন,”তেনায় দেশের ভবিষ্যত প্রধান মন্ত্রী।তাঁর সম্পর্কে কথা বলতে হলে ভেবেচিন্তে বলতে হবে।”
ড.খন্দকার মোশারে সাহেব বললেন,”আমাদের তেনার সম্পের্কে কিছু বলা বারে না, তেনায় দেশর প্রধান মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন,তরুণ প্রজন্মের অহংকার। তেনার কি নাম ধরা যায়?তিনি হলেন মস্ত বড় একজন আর্দশবান,সৎ,বিদ্বান।”এটুকু বললেন না যে, তেনায় ওনার বাপের ও বড়।

কিন্তু ওনাদের তেনার সম্পর্কে আমি আর কি বলব?আপনারাই ভাল জানেন তবু,ফিসফিস করয়ে বলছি।ওনাদের তো আবার গায়েবী ক্ষমতা আছে!
ওনারা আগেই জেনে যান ওনাদের তিনিই হবেন পরবর্তী প্রধান মন্ত্রী।দেশটা যেন তেনাদের পরিবারকে দেশবাসী লিখে দিয়েছে!সেই জন্যই ওনারা সবাই গোঁফে তেল দিয়ে বসে আছেন।যেমন ভাবে সাঈদীকে চাঁন্দে দেখেছিলেন।দিবা স্বপ্ন দেখারও একটা শ্রেণী আছে।আর সেটা যদি হয় একটি দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের অভিঞ্জ ব্যক্তিদের।তাহলে এই জাতি কপালে কি আছে?

ওনাদের তেনায় যদি হন তরুণ্যর অহংকার,তাহলে এই তরুণদের একজন হিসেবে আমার লজ্জা রাখার পাত্র পাব কোথায়?কচু গাছ কি আমায় একটু স্থান দিবে?যে লোক দেশের টাকা খরচ করেও দেশকে একটা একাডেমীক সনদ দেখাতে পারেনি,তার পরিবর্তে দেশের টাকায় বিদেশী ব্যাংক ভরেছেন।হাওয়া ভবনের হওয়ায় কেরামতী ফুঁয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ আমার আমার নাকি অহংকার?জাতির মান সম্মান থাকে?এছাড়া এতিমদের টাকা মারা,২১ আগষ্ট গ্রের্নেট হামলা মামলার আসামীকে এদেশের প্রধান মন্ত্রী ঘোষণা?ভোটের মালিক যদি জনগন হয়,ওনারা কার অনুমোদিতে এই ঘোষণা দেন?এক জন বকাটে মূর্খ যদি হয় তরুণদের আর্দশ,সেই তরুণদের তালিকা থেকে আমি আমার নাম প্রত্যাহার করয়ে নিলাম।
একজন বিচারাধীন আসামীকে দেশের ভাবী প্রধান মন্ত্রী বানানো,যেন দেশে রাজতন্ত্র কয়েম হয়েছে?যাই হোক আমরা ফিরে আসি জব্বার সাহেবের কথায়-
গতকাল জব্বার সাহেব কাঁদকাঁদ হয়ে বলল,ভাই-”ক্যান্সার হাসপাতালের টিঊমার বিভাগে গত বূধবার আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে,ডাক্তার বলেছেন,”টিউমার দীর্ঘ দিন ধরয়ে পোষায় তাঁর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”540118_533663630017240_2093324170_n

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ali-hossain-bidyut/15075.html



মন্তব্য করুন