এ হুসাইন মিন্টু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

আওয়ামীলীগে কেন এত অন্তঃদন্ধ?

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু

আওয়ামীলীগে কেন এত অন্তঃদন্ধ? এত বড় একটা দলে অন্তঃদন্ধ থাকতেই পারে, তাই বলে এ রকম মহামারি প্রকারের অন্তঃদন্ধ কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। সেই ছোট বেলা থেকেই আওযামীলীগের অন্তঃদন্ধ ব্যাপারটি শুনে আসছি। কিন্তু এসব অন্তঃদন্ধ নিরসনে কখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে নি! বর্তমানে এই দলটিতে হিমালয়সম অন্তঃদন্ধ বিরাজ করলেও বরাবরের মতো এবারও কেউ তা নিরসনে এগিয়ে আসছে না! বড় নেতারা এসব দেখেও যেন না দেখা ভান করছেন! যা কি না অদূর ভবিষ্যতে দলের জন্য কাল হয়ে দাড়াতে পারে।

আওয়ামীলীগ তথা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া স্বাধীনতা পক্ষের একমাত্র এই দলটির একজন শুভাকাঙ্খী হিসেবে কিছু কথা বলছি। সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে দলের যে ভরাডোবী অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে, বাস্তব অবস্থা তার চেয়েও অনেক বেশি ভঙ্গুর! ক্ষমতার কালো চশমার ফাঁকে ও চারপাশে অবস্থিত চাটুকাদের নম নমতার ভিড়ে আওয়ামীলীগের সভাপতি তথা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিরা হয়ত তা উপলব্ধি করতে পারেছেন না কিন্তু এটাই সত্য। তাই আমি মনে করি, এই মূহুর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে পদত্যাগ করে সজিব ওয়াজেদকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে পেছন থেকে গাইড করা এবং দলের সভাপতি হিসেবে দল গুছানোর কাজে সম্পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করা। কারণ আমি মনে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি পরিচালনা করা যতটা কঠিন, তেমনি এখানে আওয়ামীলীগের মতো বড় একটি দল চালানো কম কঠিন বা হেলাফেলার বিষয় নয়। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীত্ব ও দলীয় প্রধানের মতো গুরু গাম্ভীর্য দুইটি পদে একই সঙ্গে কাজ করাটা শুধু দুরুহ ব্যাপারই নয় অনেক ক্ষেত্রে রিস্কিও। ১৯৯০ থেকে ২০০৯ সাালের দিকে তাকালেই আমার এই কথার সত্যতা খোঁজে পাবেন। বর্তমানে আওয়ামীলীগ সবচেয়ে অগুছানো ও ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। দলে চরম অন্তদন্ধ, বিশৃঙ্খলা বিরাজ করা ও তৃণমূল নেতা কর্মীরা বঞ্চিত ও উপেক্ষিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কেন দলে অন্তদন্ধ সৃষ্টি হয় (আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বিবেচিত হয়েছে) তার মূল ৫টি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলঃ-
১- পুরানো বুড়ো ঝুনাদের বার বার দলীয় নমোনয়ন দেওয়া। এতে করে অনেকেই দলের পেছনে শ্রম ও মেধা খরচে উত্সাহ হারাচ্ছে।এমনও লোক আছে যারা ৫/৬ এমপি হয়েছে, গণতান্ত্রিক দেশে বা ব্যবস্থায় যা নিতান্তই অন্যায্য অগ্রহণযোগ্য।

২- দলীয় টিকেটে নির্বাচিত হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া। এক কথায় বিচারহীন দুর্নীতির চিত্র। এতে করে দলের সবাই জনপ্রতিনিধি হয়ে রাতারতি অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ার লালসা বুকে লালন করে। কারণ চোখের সামনে কেউ যখন একই দল করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে যায় তখন অন্যরা একই স্বপ্ন দেখাটাকে অন্যায় মনে না করে, দলীয় অধিকার মনে করেন।

৩- দল ক্ষমতায় থাকালে যা খুশি ( টেন্ডারবাজী, দখলবাজী, চাঁদাবাজী, গুন্ডাগিরি, ঘোষ, মারামারি হানাহানি, যুলুম অত্যাচার ইত্যাদি) তাই করে পার পাওয়া। অর্থাত দল ক্ষমতায় মানে সাত খুন মাফ!

৪-আর একটা হলো সুবিধাবাদীদের দলে নেয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদ দেয়া। দীর্ঘদিনের অগ্নিপরীক্ষায় দগ্ধ তৃণমূল নেতাদের কোন মূল্যই নাই। এটাই এদেশের সংস্কৃতি। পরিবারেও দেখা যায়, খাবার নিয়ে পোশাক নিয়ে হাত খরচা নিয়ে যে সন্তান হৈচৈ কম করে, তার দিকে মনোযোগ কম, মন জুগায় সেই সন্তানের যে মাথাভাঙ্গা।

৫- স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দলে ভূমিকাহীন ব্যক্তিদের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত করা।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ahussainmintu/28690.html



মন্তব্য করুন