এ হুসাইন মিন্টু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

সবে তো শুরু, আরো কত কি দেখার আছে বাকী!

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু

পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে আসামীদেরকে ছিনিয়ে নিয়েছে জঙ্গিরা, এই খবর শুনে অনেকেই এমন ভাবে আতঁকে উঠছেন( অথবা ভান করছে) যেন দেশ ধ্বংস হয়ে গেল। না না দেশ নয়, দেশ রসাতলে গেলেও বাঙালীদের কিছু যায় আসে না! আসলে কথাটা এমন হবে বা হওয়া উচিত যেন তাদের সহায় সম্পত্তি সব ধ্বংস হয়ে গেল! এই খবর শুনার পর আমার ভেতরে তেমন একটা বিকার অনুভূত হয় নি! কেন হয় নি? তাহলে কি আমার বিবেক বুদ্ধি লোপ পেয়ে জঙ্গিদের জন্য আমার ভেতরে কিঞ্চিত মায়া সঞ্চারিত হচ্ছে, আমি বদলে গিয়েছি? হয়ত আমি সামান্য বদলেছি, তবে আমি ভালো করেই জানি জঙ্গিদের জন্য কোনো কালেই আমার ভেতরে দয়ার সঞ্চার হবে না! তাহলে অন্যদের সাথে কেন আমি হাহোতাসে যোগ দিলাম না, কারণ আবাক হতে হলে, ভয়ে আতঁকে ওঠতে হলে যে ধরনের মন মানসিকতার প্রয়োজন পড়ে আমার বোধ হয় তা ধীরে ধীরে লোপ পাচ্ছে।

লোপ পাওয়াটাই সংগত নয় কি? আপনারা ভুলে যেতে পারেন বিএনপি জামাত জোট সরকারের অপশাসন, খাম্বা বাণিজ্য, লাগামহীন দুর্নীতির চিত্র। আপনি হয়ত মনে রাখেন নি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বোমাবাজীর কথা, দশ ট্রাক অস্ত্র আমদানীর কথা, একুশে আগস্টের কথা, সতেরই আগস্টে সিরিজ বোমা হামলায় সারা দেশে কিভাবে কেপেঁ ওঠে ছিল, সেই কথা। আমি ভুলতে পারি নি। চোখ বন্ধ করলেই ঐসব রোমহর্ষক চিত্র আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে! হৃদয়ের পুরানো ক্ষতগুলো গঁজিয়ে ওঠে নতুন করে যন্ত্রনাকাতর করে তুলে । তারপরও আমি মনে করি, ওসব নৃশংসতা ওদের নিজ যোগ্যতার তুলনায় কমই ছিল। ক্ষমতার বাইরে থেকেই বিএনপি-র কাধে ভর করে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র জামাত শিবির গত এক বছরে সারা দেশে যেভাবে নাশকতা চালিয়েছে, যেভাবে জিন্দা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যেভাবে বোমাবাজী করে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে, তাতেও যখন আপনাদের বিবেক জাগ্রত হয় না, তখন অপেক্ষা করুন ভবিষ্যতের জন্য। যদি আবার কখনো ওরা ক্ষমতায় আসতে পারে তখন দেখবেন নৃশংসতা ও বর্বরতা কাকে বলে, ১৯৭১ সালের কায়দায় মানুষকে ঘর থেকে ধরে এনে যে আবার জবাই করবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা আমি দেখতে পারছি না। এক তরফা নির্বাচনের দোহাই দিয়ে যেভাবে দেশী বিদেশী বিভিন্ন মহল পুনঃরায় নির্বাচন দিতে বলছে, তাতে যদি সত্যি এ রকম কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সেই সুযোগে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আশীন হতে পারে তখনকার চিত্র যে এর চেয়েও ভয়াবহ হবে না তারই বা নিশ্চয়তা কী? সেই জন্যেই নিজেকে তৈরী করছি। হাতুরি মারতে মারতে একদিন যেভাবে নরম চামড়া হাতও শক্ত হয়ে যায় কিছুটা ঐভাবে নিষ্টুরতার কষাঘাতে হৃদয়কে পাথরের মত শক্ত করার চেষ্টা করছি।

গত পাঁচ বছরে মুক্তিযুদ্ধ, যুক্তিযোদ্ধা, রাজাকার, আল-বদর ও স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি সংগঠন নিয়ে দেশে এত আলোচনা হয়েছে যে, এ রকমটা গত বিয়াল্লিশ বছরে আর কখনো হয়েছে বলে মনে হয় না। কে রাজাকার, তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও সংগঠন কোনটা, এসব আর বোধ হয় দেশের কারো অজানা নয়। রাজাকারদের বিচারের দাবীতে রাজপথের আন্দোলন আজও বিদ্যমান। বিচার চলছে, ফাঁসির আদেশ হয়েছে অনেকের এবং রায় কার্যকরও হয়েছে একজনের। এত কিছুর পরও যেখানে কিছু মানুষ ঐসব নরপশু হায়নাদের পক্ষে অবলীলায় সাফাই গায়, মুক্তির দাবীতে রাজপথে আন্দোলন করে! যে দেশের মানুষ রাজাকারদের পূর্বসুরিদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে, সেখানে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গীকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, এটা কি খুব আস্বাভাবিক কিছু বা আতঁকে ওঠার মতো খবর? জেল ভেঙ্গে নিজামী, মুজাহিদদেরকে নিয়ে গেলেও তো আমি অবাক হবো না। এখন পর্যন্ত যে নিয়ে যায় নি বা নিয়ে যেতে পারে নি, এটাকেই আমি সুভাগ্য মনে করছি। বাংলাদেশ যে আরেকটা আফগানিস্তান বা পাকিস্তান হয়ে যায় নি এখনো, এটাই আমার জন্য সু-খবর ।কারণ বাংলাদেশের মানুষ যে রকম উগ্র সাম্প্রদায়িক মন মানসিকতা পোষণ করে তাতে করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া শুধু কষ্টকরই না, প্রায় অসম্ভব ব্যাপার! তার উপরে বাঙালীদের যা পাই তাই খাই স্বভাবের কথা তো বলাই বাহুল্য! মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে, এমন খবর শুনার পর এখানকার অধিকাংশ মুসলমান যেভাবে চাপা উল্লাস প্রকাশ করে। পাঁচ কালেমা জানে না এমন লোকও যদি শুনে রাসূলকে কেউ গালি দিয়েছে, হউক না তা গুজব, তবুও রাস্তায় নেমে পড়বে, অনিষ্টতা তো বটেই খুনোখুনি করতেও পিছ পা হবে না! একবারো ভাববে না, ধর্মের নামে অনিষ্টতা কতটা ধর্মীয় বিধি সম্মত! ধর্মীয় দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে যদি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেত তাহলে সৌদি আরব-ই বিশ্বের সবচেয় উন্নত ও শক্তিশালী দেশ হত! ওদের যতটুকু উন্নয়ন প্রায় তার সবটাই প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে।

যেখানে নির্বাচনে জিতলেই কেবল নির্বাচন সুষ্ঠ, আর হারলে কারচুপি ও জালিয়তী হয়েছে, নির্বাচন কমিশন খারাপ, সরকার খারাপ, এমন অভিযোগ আনা হয়! এবং জিতার পর মনে করা হয়, জনগণ সরকারকে উচিত জবাব দিয়েছে, এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই! যে দেশের মিডিয়ার ভাষা হয়, বিএনপি জামাত মারলে দুর্বৃত্ত, আর বিএনপি জামাত মরলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামালীগের দোষ! আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর লোকসহ অন্যরা মরলে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থ, সর্বত্র সুবিধাবাদীদের ম্যত্কার শুরু হয়! সন্ত্রাসী দমনে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্রসফায়ার করলেও সরকার খারাপ হয়ে যায়! বিরোধী মতাবলম্বীরা সব মরে সাফা, গণতন্ত্র শেষ, সকলের মানবতা দন্ড উষ্ণ হয়ে যায়, পত্রিকার পাতা ও টিভি চ্যানেল গরম, টকশোজীবীদের ব্যবসা রমরমা, দেশী বিদেশী সকল ধান্ধাবাজের গলা সরব হয়! সেখানে আমার কিচ্ছু বলার নেই, আমি আর আতঁকেও ওঠবো না!

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ahussainmintu/28253.html



মন্তব্য করুন