এ হুসাইন মিন্টু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

যেখানে মানুষ-ই নেই, সেখানে মানবতা, মানব অধিকারের কি দরকার?

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু

বাঙালীদের যে উপকার করবে তাকে পস্তাতে হবে এবং উক্ত ব্যক্তির দ্বারাইউপকারীর ক্ষতি সাধিত হবার সমূহ সম্ভবনা আছে, এটা একটি প্রমাণিত সত্য। তাই যে বাঙালীদের ভালো করতে চায় সে মহামূর্খ বা মহাগর্দভ বৈ আর কিছু না। কারণ বাঙালীরা নিজে নিজের ভালো বুঝে না। স্বাধীনতা, মুক্তি, বাঙালীদের এসব যে শিখিয়েছেন, সে-ই বাঙালীদের কাছে ভালো থাকতে পারে নি। শত শত বছর নির্যাতিত নিপীড়িত হওয়ার পর যে-ই লোকটির কল্যাণে বাঙালীরা নিজস্ব জাতিসত্ত্বা, মানচিত্র, পতাকা, স্বাধীন ভূ-খন্ড তথা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ পেয়েছে, দেশ স্বাধীন হবার পর অত্যন্ত নারকীয় ভাবে পরিবারসহ বাঙালীরা তাকেই হত্যা করেছে! এই দেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে যে চার মনিষীর অপরিসীম ভূমিকা ছিল, বাঙালীরা বন্ধি জেলের প্রকোষ্ঠে তাদেরকেও নির্মম ভাবে হত্য করেছে! বাঙালীদের অপকারীতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও নির্মমতার উদহারণের এখানেই শেষ নয়!

বাঙালীদের বেইমানীর কথা লেখতে গেলে সপ্তাহ মাস লেখেও শেষ করা যাবে না! শেখ মুজিবকে শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয় নি বেইমানের দল, নিহত লোকটির নামে রটিয়েছে নানা কু-রটনা! যার অবদানে স্বাধীন বাংলাদেশে পেয়েছে বাঙালীরা বাংলাদেশ থেকে তার-ই নাম নিশানা মুছে দিতে উদ্যত হয়ে ছিল! তারপরও এদের সাধ মেটে নি! এখনো কোনো কোনো বেজন্মা মুজিবের নামে গালি উচ্চারণ করে কারণ শেখ মুজিবের কারণে ওদের মা বোনেরা লম্বা বাম্বুওয়ালা পাকিস্তানিদের ঠাব থেকে বঞ্চিত হয়েছে! এদের মা বোনকে পাকিরা একসাথে বেধে যা খুশি তাই করত আর এসব কুলাঙ্গারদেরকে দিয়ে পাকিদের মূত্র ও জুতা পরিষ্কার করালেই বোধ হয়, এরা খুশি ছিল! মুজিব তা হতে দেয় নি বলে বড় অন্যায় করে ফেলেছেন!

১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বাঙালীদেরকে ১০ টাকা কেজি চাল, ২৬ টাকা কেজি ডাল, ৪ টাকা কেজি লবণ খায়িয়ে ছিল বলে হাসিনা অনেক অন্যায় করে ছিল! দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করে, বিদ্যুত উত্পাদন করে, বড় অন্যায় করে ছিল বলে বাঙালীরা তাকে ভোট না দিয়ে খালেদাকে ভোট দিয়ে ছিল ২০০১-র নির্বাচনে! খালেদা ক্ষমতায় এসে ৪০ টাকা কেজি চাল, ১০৫ টাকা কেজি ডাল আর ২০ টাকা কেজি লবণ খায়িয়ে বড় উপকার করেছে! খালেদার সন্তানেরা বাঙালীদের কষ্টে অর্জিত টাকায় বড় জাহাজ কিনে বুড়িগঙ্গা ভরে বড় উপকার করেছে! দেশের টাকা বিদেশে প্রাচার করে বাঙালীদের বড় উপকার করেছে বলে এখনো বাঙালীদের বিরাট একটা অংশ জেনে শুনে খালেদার জয় গান গায়! চোরা তারেকের নামে মিছিল ধরে!

৫-ই জানুয়ারির আগে দেশের অবস্থা কি ছিল তা কারো অজানা নয়। মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারত না! বোমা ফাঁটিয়ে, আগুন লাগিয়ে গাড়ীসহ জিন্দা মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনা ছিল নৈমিত্তিক! সংখ্যা লঘুদের উপর হামলা, উপাসনালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না! বিএনপি, জামাতের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে মাসে পাঁচ শতাধিক মানুষের অপমৃত্ত্যুর ঘটনাও ঘটেছে! এত কিছুর পর বিবেকবান মানুষ কিভাবে বিএনপি জামাতের পক্ষে সাফাই গায়? এরা কি মানুষ? এরা কি বাঙালী?

পাঁচ তারিখের পর যেভাবেই হোক পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। মানুষ নির্বিঘ্নে তার কাজকর্ম সাড়তে পারছে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় মননিবেশ করতে পারছেন! যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এসেছে! বোমাবাজী বন্ধ হয়েছে! কিন্তু বিদেশী কিছু দালালসহ এদেশীয় কিছু জারজের এসব আর সহ্য হচ্ছে না! বাঙালীরা ভালো থাক, শান্তিতে থাক এটা ওরা চায় না! তাই তো নির্বাচন নির্বাচন বলে চিল্লাফিল্লা শুরু করেছে! দেশে আরেকটা অস্থিতিশীল পরিস্থিত সৃষ্টির পায়তারা করছে!

বুবু, আমার এক কথা, আমি একজন বাঙালী হিসেবে, এদেশের নাগরিক হিসেবে আপনার কাছে করজোরে দাবী জানাচ্ছি, যে যে ভাষা বুঝে তার সাথে সেই ভাষায় কথা বলুন। বাঙালীরা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এসবের মানে ও মর্ম কোনোটাই বুঝে না। এরা গণতন্ত্রকে মিথ্যাচারের অধিকার ও স্বাধীনতাকে স্বেচ্ছাচারীতা মনে করে! যে সোনার কদর বুঝে না তার কাছে সোনা ও তামার মধ্যকার প্রার্থক্য অমূলক। যেখানে মানুষ-ই নেই, সেখানে মানবতা ও মানব অধিকারের কি প্রয়োজন? বাঙালীরা ডান্ডা ছাড়া আর কোনো ভাষা বুঝে না। বাঙালীরা আপনার বাবাকে কি প্রতিদান দিয়ে ছিল, সেই কথা নিশ্চয় আপনি কোনোকালেও ভুলতে পারবেন না। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আপনার সত্ রাষ্ট্র পরিচালনার স্বীকৃতি এরা কিভাবে দিয়ে ছিল সে-ই কথাও ভুলে যাবেন না। মনে রাখবেন, অধিক কথা বলুয়া ও অস্থির প্রকৃতির বাঙালী জাতির উপকার করতে হলে প্রথমে তার ঘাড়ে কষে ডান্ডা মেরে নিস্তব্দ করে নেওয়া অতিব জরুরী।

আমি এমন স্বাধীনতা চাই না যে স্বাধীনতার জোরে মানুষ হয়েও আমাকে অমানুষের সাথে বাস করতে হবে! বাঙালী হয়েও অবাঙালীর কাছে জিম্মি থাকতে হবে! হয় আমাকে স্বাধীনতার মতো স্বাধীনতা দিন, না হয় অমানুষ ও আবাঙালীদেরকে চির নিধন করুন।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ahussainmintu/28057.html



মন্তব্য করুন