এ হুসাইন মিন্টু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

মরণ কামড় দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী জামাতি জঙ্গীরা

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু

মঙ্গলবার মধ্য রাতে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার রসূলবাগ আবাসিক এলাকায় জামাত কর্মীর বাসায় বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে! এই ঘটনা পর জামাত কর্মী জঙ্গী নসরুল্লাহ পালিয়ে গেছে! তার মেঝো ভাই আসাদুল্লাহ ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।

নসরুল্লাহর বাবা ইসলামি ব্যাংকের কর্মকর্তা, বড় ভাই ফয়জুল্লাহ মাদ্রাসা শিক্ষক ও মেঝো ভাই আসাদুল্লাহ সক্রিয় জামাত কর্মী। নসরুল্লাহ আগে শিবিরের ক্যাডার ছিল, পরে সে জামাতে মূল রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়।

প্রায় এক সপ্তাহ আগেই চট্টগ্রামের এক মাদ্রাসায় বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে ছিল। পরে দেখা গেল মাদ্রাসাটি মূলত বোমা বানানোর কারখানা ছিল। পুলিশ সেখান থেকে বিপুল পরিমানে বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করলেও পালিয়ে গিয়েছে জঙ্গী মুফতি ইজাহার। গতরাতের ঘটনার পর নসরুল্লাহর বাসা থেকেও অর্থাত ঘটনাস্থল থেকে গান পাউডারসহ এমন বিস্ফোরক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে যা দিয়ে হেন্ড গ্রেনেড তৈরী করা হয়।

চট্টগ্রামে একই ঘটনার পুনার্বৃত্তি ঘটছে বার বার ! আবাসিক এলাকার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যদি এমন রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে, তাহলে পুলিশের জঙ্গী বিরোধী তত্পরতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন জাগে মনে। সহজেই অনুমান করা যায় চট্টগ্রামের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম কত দুর্বল । বিস্ফোরণের মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটার পরই কেন পুলিশ খবর পায়? আগে কেন নয়, এসব প্রশ্ন করা কি খুবই অনুচিত হবে? যেসব জায়গায় এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে, মাদ্রাসাসহ সেইসব জায়গাগুলোকে কেন এতদিনে পুলিশ অথবা গোয়েন্দা নজরদারীতে আনা গেল না? এ ব্যাপারে কবে প্রশাসনের টনক নড়বে? এসব ঘটনায় যদি কারো প্রাণনাশের মতো ঘটনা ঘটে, সেই দায়িত্ব কে নিবে ?

এসব জঙ্গী তত্পরতা নিশ্চয় ২৫শে অক্টোবরকে সামনে রেখে চালানো হচ্ছে, স্বাধীনতা বিরোধীরা ও জামাতি জঙ্গীরা ভেতরে ভেতরে মরণ কামড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, এসব দেখার জন্য সরকার বা প্রশাসনের কোনো অঙ্গ প্রতঙ্গ কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে না ! জামাতের ব্যাপারে সরকার কেন এত উদাসীন, তা কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না। শত্রুকে মিত্ররূপে দেখা বা দুর্বল ভাবা বোকামী বৈ আর কিছু না। সরকার বার বার কেন এই বোকামীর পরিচয় দিচ্ছে ? এইসব জঙ্গীদের সব সময় মূল টার্গেট থাকে শেখ পরিবার তথা শেখ হাসিনা। অতীতে আমরা তার অনেক নজির দেখেছি। পনেরো-ই আগস্ট ও একুশে আগস্ট এখনো আমাদের মনে ক্ষত হয়ে আছে। পনেরো-ই আগস্ট বা একুশে আগস্টের মতো ভয়ংকর দিন আমরা আর কখনো দেখতে চাই না। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বার বার আমাদের মনে শঙ্কা জাগাচ্ছে। একুশে আগস্ট বা পনেরো-ই আগস্টের মতো আরেকটি অনাকাঙ্খিত সর্বনাশা ঘটনা ঘটার পরই কি প্রশাসন বা সরকারের টনক নড়বে ?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ahussainmintu/23720.html

 1 টি মন্তব্য

  1. jannatul.ferdous

    পনেরো-ই আগস্ট বা একুশে আগস্টের মতো ভয়ংকর দিন আমরা আর কখনো দেখতে চাই না। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বার বার আমাদের মনে শঙ্কা জাগাচ্ছে। একুশে আগস্ট বা পনেরো-ই আগস্টের মতো আরেকটি অনাকাঙ্খিত সর্বনাশা ঘটনা ঘটার পরই কি প্রশাসন বা সরকারের টনক নড়বে ?

মন্তব্য করুন