এ হুসাইন মিন্টু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন যজ্ঞ২-প্রসঙ্গ কৃষি

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে মহাজোট সরকার সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে। অতীতে কোন সরকারের আমলে এ রকম অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়নি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এ পর্যন্ত তিন দফা সারের দাম কমিয়েছে। এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় টিএসপি সারের মূল্য ছিলো কেজি প্রতি ৮০ টাকা, যা এখন ২২ টাকা। এছাড়া এমওপি ছিল ৭০ টাকা, তা কমিয়ে করা হয়েছে ১৫ টাকা কেজি। ডিএপি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৭ টাকা করা হয়েছে। এর বাইরে সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট ইউরিয়া সারের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে।

কৃষিতে এমন আশাতীত সাফ্যে পেছনে রয়েছে, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যাপকহারে ভর্তুকি প্রদান, সহজশর্তে কৃষি ঋণ প্রদান, বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ এবং কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত কৃষি খাতে সর্বমোট ৩২ হাজার ১৫০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে ।

বর্তমান সরকারের আমলেকৃষিখাতের গবেষণাতেও চমকপ্রদ সাফল্য এসেছে । বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সোনালী আঁশ পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কার করেছেন। গবেষণা খাতে বাংলাদেশ এখন একটি গর্বের নাম। বিশ্বের যে কোনো জায়গায় পাটের নাম উচ্চারণ হওয়ার সাথে উচ্চারিত বাংলাদেশের নাম। এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সাতটি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষাণা ইনিস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট, বাংলাদেশ পাট গবেষাণা ইনিস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষাণা ইনিস্টিটিউট, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কৃষি গবেষণায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম গবেষণা সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও গবেষণা কার্যক্রমে সরকার ২০০৮-০৯ থেকে ২০১২-১৩ অর্থ বছর পর্যন্ত রাজস্ব খাতে ৩৩০.৪৫ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ২৫১.৫৫ কোটি মোট ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের গত সরকারের(১৯৯৬-২০০১) মাত্র ৫ বছরে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ৭৯ লাখ মে.টন। সার্বিক কৃষির ফসল খাতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ১৯৯৯-২০০০ এবং ২০০০-২০০১ সালে যথাক্রমে ৮.১০ এবং ৬.১৮ হারে। কৃষিখাতের উন্নয়ন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা-কে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (FAO) ‘সেরেস’ পদকে ভূষিত করে। অথচ বিএনপি জামাতসহ চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই দেশে শুরু হয় খাদ্য সংকট। ২০০২ সালে থেকে প্রতি বছরই দেখা দেয় ডিজেল ও সারের সংকট। কৃষি উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার আবার কমে প্রায় শতকরা তিন দশমিক পাঁচ (৩.৫%) ভাগে দাঁড়ায়। কৃষিখাতে উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বাজারে খাদ্যস্যের অগ্নিমূল্যের কষাঘাতে সারাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। অপরদিকে সরকারের খাদ্যগুদামে নিরাপদ মজুত গড়ে তোলাও সম্ভব হয় না। আর এ ধারা অব্যাহত থাকে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দু’বছরেও। দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিপর্যয়পূর্ণ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী দেখা দেয় খাদ্য সংকট। ফলে ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় সৃষ্টি হয় আরো জটিল ও ভয়াবহ অবস্থার।২০০৬-২০০৭ সালে আমত্মর্জাতিক বাজারে প্রতিটন চালের মূল্য ছিল ৩০১ ডলার। ২০০৮-২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৫ ডলারে। ফলে ২০০৮-২০০৯ সালে মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়ে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় ওঠে। গমের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ভারতসহ খাদ্য উৎপাদকারী দেশগুলো রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায়, সরকারের কোষাগারে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে খাদ্যের সরবরাহ পাওয়া যায় নি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর পর-ই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বা আরোপ করে। এ লক্ষে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ইউরিয়া ব্যতীত সকল প্রকার সারের মূল্য অর্ধেকে কমিয়ে আনা, ভাল বীজ সহজলভ্য করা, ডিজেলের মূল্যে কৃষককে ভর্তুকী দেয়া, ব্যাংক ঋণ সহজ করাসহ কৃষিতে ভর্তুকী বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে উৎসাহী হয়। ফলে পরবর্তী সবকটি মৌসুমে প্রধান ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। প্রথম দুই বছরেই কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির হার শতকরা তিন দশমিক ৫৭ (৩.৫৭%) থেকে চার দশমিক ৪৭ (৪.৪৭%) এ উন্নীত হয়।

গত ২০ বছরে দেশে খানার আয় এবং কৃষি ও অকৃষি শ্রমিকের মজুরির চিত্র-

সাল খানার আয় (টাকায় ) সাল কৃষি ও অকৃষি শ্রমিকের মজুরি (টাকায়) চালের তুলনায় মজুরি (কেজি)

 

১৯৯১-৯২ ১১১.০০ ১৯৯৩ ৩৬.৮০ ৩.২৫

১৯৯৫-৯৬ ১৯৫.০০ ১৯৯৬ ৪৬.৬০ ৩.৪৫

২০০৯-১০ ৩৮৫.০০ ২০০০ ৬৩.৫০ ৪.৮৭

২০০৬ ১২৫.০০ ৪.৫০

২০১০ ২৫০.০০ ৮.০০

এ জরিপ থেকে দেখা যায় খানার আয় বেড়েছে তিন দশমিক (৩.৫) গুণ। চালের মূল্যের সাথে তুলনা করে (Rice Equivalant of Wage) দেখা যায় গত ৩-৪ বছরে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ একদিনের মজুরি দিয়ে একজন শ্রমিক প্রায় আট কেজি চাল কিনতে পারছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বর্তমান সরকারের নিরলস পরিশ্রম ও সাহসী উদ্যোগের ফলে বর্তমানে(২০১৩) দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ । বর্তমানে দরিদ্রের হার ১৫ শতাংশ, যেটাকে ২০২১ সালের মধ্যে শূন্যতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে খাদ্য মজুদের চিত্র-১৬/০৯/২০১৩ তারিখে খাদ্যশস্যের মোট মজুদ ১১.৩৭ লাখ মেঃ টন। এর মধ্যে চাল ০৮.৭৪ লাখ মেঃ টন এ গম ২.৬৩ লাখ মেঃ টন। এছাড়া, বন্দরে ১.৪১ (চাল ০.০০+ গম ১.৪১) লাখ মেঃ টন খাদ্যশস্য ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।

এখন বিবেচণা আপনার আপনি কী চান, কৃষিতে অভূতপূর্ণ সাফল্য, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ, না কৃষিতে অবনতি, খাদ্যে হাহাকার, ক্ষুধার জ্বালা, অনাহারী জীবন ?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ahussainmintu/22464.html



মন্তব্য করুন