এ হুসাইন মিন্টু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

মহাজোট সরকারের মহা উন্নয়ন যজ্ঞ১ – প্রসঙ্গ বিদ্যুত।

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু

যে কোনো জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে শিক্ষা, যোগাযোগ ও বিদ্যুত, এই তিনটি খাতকে চিহ্নিত করা হয়। বর্তমান সরকার এই তিনটি খাতেই অভাবনীয় সফলতা দেখিয়েছে। এছাড়াও কৃষিখাতেও বর্তমান সরকার বিরাট সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। যাহোক, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কৃষি নিয়ে অন্যদিন আলোচনা করব। আজকের বিষয় বিদ্যুত।

বাংলাদেশের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে বিদ্যুত একটি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ছিল যে সকল খাতের উপরে তন্মধ্যে বিদ্যুত অন্যতম। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা ও প্রচেষ্টায় গত সাড়ে চার বছরে সরকার বিদ্যুত খাতে আশানুরূপ সফলও হয়েছে।

বিএনপি জামাত সরকারের খাম্বা বাণিজ্যের খবর কে না জানে ? ২০০১ থেকে ২০০৬ বাংলাদেশের মানুষকে বিদ্যুতের জন্য কী পরিমান দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুতের বদলে পেয়ে ছিল খাম্বা, আর মাফিয়া তারেক পেয়েছে কমিশন।

কিন্তু এই সরকার এসেই মোটামোটি বছর তিনেকের মধ্যে কুইকরেন্টাল করে বিদ্যুত খাতে মোটামোটি হওয়ার পর শুরু হয় বিএনপি-র নেতাদের মনগড়া সমালোচনা। কুইকরেন্টাল করে বিদ্যুতের নামে সরকার মানুষের পকেট কাটছে। কিন্তু তাদের সেই সকল হাওয়াই যুক্তি ধোপে টিকে নি । মানুষ বিদ্যুত খাত থেকে সুফল পেয়েছে, এবং অত্যন্ত নিন্দার সাথে বিএনপি-র সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।(এখানে বলে রাখি, যে কোনো বিদ্যুতকেন্দ্র জেনারেশনে যেতে মিনিমাম তিন বছর সময় লাগে বলে কুইকরেন্টালের ব্যবস্থা করা হয়েছে)

সরকার যে বিদ্যুত খাতে সফলতার দাবী করতে পারে তা যখন আপনি লোডশেডিং-এর দিকে তাকালেই অতি সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন। ২০০৬ সালের এই দিনে ঢাকা শহরে অথবা সারা বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে কত ঘন্টা লোডশেডিং ছিল, আর এখন কত ঘন্টা হচ্ছে ? ব্দ্যুতের অভাবে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে কতগুলো কলকারখানা অচল ছিল, আর এখন কতটি সচল ? ২০০৬ সালে কত মেগাওয়াট বিদ্যুত উত্পাদন হত, আর এখন কত মেগাওয়াট উত্পন্ন হচ্ছে ?

বিএনপি জামাত সরকারের সর্বোচ্চ বিদ্যুত উত্পাদন হয়ে ছিল২০০৬ সালে ৩১০০ মেগাওয়াট। বর্তমান সরকারের আমলে যা (২০১৩সালে) ৮৫২৫ মেগাওয়াটে দাড়িয়েছে।পিডিবির হিসেব অনুযায়ী বর্তমান সরকারের সময় ৫৫টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করেছে, যেগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩৮৭০ মেগাওয়াট। এছাড়া ৫৮৭৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরো ৩১টি কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। এছাড়াও পরমানু বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সাথে সরকারের চুক্তি হয়েছে। আগামী ২০১৭ সাল নাগাদ পরমানু থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

এছাড়াও শনিবার দুপুরে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুতকেন্দ্র, হরিপুর ৪২০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। তিনিই আড়াই বছর আগে কেন্দ্রটির ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন।বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জের হরিপুরে গ্যাসভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে জাপানের মারুবেনি করপোরেশন, যাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬৬১ কোটি টাকা। কেন্দ্রটির গ্যাস টারবাইন থেকে উৎপাদন হবে ২৭২ মেগাওয়াট ও বাষ্পীয় টারবাইন থেকে হবে ১৪০ মেগাওয়াট। সবমিলিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হবে এক টাকা ৭১ পয়সা।

এখন দেশের মানুষকে ভেবে চিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি এই উন্নয়নের সঙ্গে থাকবেন, না জঙ্গিবাদ আর মাফিয়াদের সঙ্গে থাকবেন ? তারা কি নিজেদের মঙ্গল চান, না কেবল তারেক কোকোর মঙ্গল চান ?

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ahussainmintu/22424.html



মন্তব্য করুন