এ হুসাইন মিন্টু-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

সিরিয়া অভিযানে ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন পায় নি প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন । বাংলাদেশের আইনপ্রণেতা ও ব্রিটিশ এমপিদের দায়িত্বশীলতা।

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু

সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরনের প্রস্তাবে সায় দেয় নি সে দেশের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হউস অফ কমন্স। বৃহস্পতিবার রাতে ২৮৫-২৭২ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা।

১৭৮২ সালের পর ক্যামেরনই প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যার সামরিক প্রস্তাব পার্লামেন্টে অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়। ভোটের পর আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, পার্লামেন্টের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি কিছু করবেন না। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। জনগণ চায় না ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় কোনো অভিযানে যুক্ত হোক। আমি এটি বুঝতে পেরেছি এবং সরকার সেভাবেই যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

দেখুন গণতন্ত্র কাকে বলে ? গণতন্ত্র মানে একে অন্যের মতামতের শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। সে যেই হোক না কেন ? কিন্তু আমরা আমাদের এখানে কী দেখি ? আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ বা সম্মতি থাকলে তো যে কোনো বিল বা আইন আমাদের সংসদে পাস হতে মাত্র তিন মিনিট লাগে! গণতন্ত্রের নামে আমাদের এখানে কি চলছে সেই ১৯৯১ থেকে? আমাদের এখানে গণতন্ত্র মানেই একজনের ইচ্ছার বহির্প্রকাশ। নির্বাচনে বিজয়ী পার্টির প্রধান যা বলবেন, তাই হবে, এবং হয়েছে। দলের অন্য কারো সাধ্যি বা হিম্মত নেই দলীয় প্রধানের কথায় ভেটু দেয় । এখানে নির্বাচনে জিতা মানেই পাঁচ বছরের জন্যে দেশের মালিক বনে যাওয়া। পাঁচ বছর যা খুশি তাই করার সার্টিফিকেট পাওয়া।

কিন্তু গণতন্ত্রের আবির্ভাবক যারা, যাদের গণতন্ত্রকে মডেল হিসেবে দেখা হয়, তারা এমনটি করতে পারেন? মোটেও না। গতকাল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাতিল হয়ে ক্যামেরনের প্রস্তাব তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। কিন্তু আমাদের দেশের সংবিধানই গণতন্ত্রের প্রথম বাধা। সংবিধানের সত্তর ধারা অনুযায়ী দলের কোনো এমপি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মতামত ব্যক্ত করতে পারেন না। যদি করেন, আইন অনুযায়ী তাকে তার এমপিত্ব হারাতে হবে। এত কষ্ট করে, এত খরচ করে, এমপি হওয়ার পর কে হারাতে তা চায় ?

সংবিধানের সত্তর ধারার পরিবর্তন নিয়ে টকশো-তে, বিভিন্ন আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনীতিবিদগণের গলা ফাঁটানো বক্তব্য বলতে শোনা গেলেও আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে সংসদে বিল আনা তো দূরের কথা, সংসদে দাড়িয়ে এর বিরুদ্ধে কাউকে টু-শব্দ করতেও শোনা যায় নি ! কেন? দলের মতামতের বিরুদ্ধে গেলে আপনার এমপিত্ব চলে যেতে পারে, কিন্তু সত্তর ধারা নিয়ে কথা বললে তো যাবে না। কেউ কথা না বলার কারণ হল, কেউ চায় না কিছুতেই দলীয় প্রধান তার উপর মনক্ষুণ্ণ হউক। দলীয় প্রধান মনক্ষুণ্ণ হলে কাজ পাওয়া যাবে না, কাজ বন্ধ হলে নোট কামানো যাবে না। সোজা সাফটা কথা হল, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। দেশ ও গনগণ যাক গোল্লায়, সুযোগ যখন পেয়েছি, আমি মালামাল হয়ে নিই আগে।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/ahussainmintu/21769.html



মন্তব্য করুন