A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

ভাষার ঐতিহ্য রক্ষার জন্য শুদ্ধতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষার সংরক্ষনও প্রয়োজন ।

লিখেছেন: A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT

আমার মাতৃভাষা বাংলা । গর্বের সাথে বলতে পারি যাদের ত্যাগ আমাদের এ বাংলা ভাষাকে এনে দিয়েছিলো তারা আমাদেরই এ বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান । যে বীর সন্তানেরা বাংলা ভাষার জন্য তৎকালিন পাকিস্তানিদের উপর নিজেদের অবস্থান সুস্পষ্ট করে আত্নাহুতি দিয়েছিলেন তাঁরা কেউ ছিলেন শহুরে অথবা কেউ ছিলেন গ্রামের সাধারন সমাজ থেকে উঠে আশা মেধাবী সন্তান । তখন সবাই একই স্বপ্ন নিয়ে এই অসম লড়াইয়ে নেমেছিলো যেন আমরা আমাদের এই মমতা ময়ী বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি, আমাদের কথা বলতে গিয়ে দম আটকে না আসে ।
এত ত্যাগের পর আমরা এই ভাষাকে নিজের করে পেয়েছি । হয়ত কালের আবর্তে আমরা এই ভাষার শুদ্ধতাও এনে দিতে পারবো । কিন্তু ইচ্ছা করলেই আঞ্চলিকতাকে আজই শুদ্ধ হিসাবে সাবার কাছে গ্রহনযেগ্য করা সম্ভব হবেনা বা উচিৎও নয় । কিছু আঞ্চলিকতা বাংলাভাষাকে আরও বেশী মধুর করে তুলেছে আমাদের মনের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে । কত বিচিত্র এই বাংলা ভাষা । বিচরন না করলে কখনই বোঝা যাবেনা বাংলাভাষা বলার ভঙ্গিমায় কি রকম আলাদা আলাদা ব্যকুলতা রয়েছে ।যা কিনা আমাদের কথা বলার আত্নতৃপ্তি সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত ।
একটু লক্ষ করলেই দেখা যায় আমাদের কোন এক অঞ্চলে পানিকে হানি উচ্চারন করে বলা হচ্ছে । তাদের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা বানান করছে পা+নি =উচ্চারন করছেন হানি ।

আবার ঢাকার কাছে কিছুটা উত্তরের ভাষায় আলাদা একটি টান লক্ষ করা যায় । যেমনঃ সাধারন ভাবে যদি আমরা বলি, তুমি কি গতকাল ঢাকা গিয়েছিলে । সেটাকে বলা হয়- আপনে কি কাইলগো ঢাহা গেছিলান ।এখানে ভাষাভাষির দিক থেকে দুভাগে ভাগ করে কথা বলা হয় । প্রথমটি হল পুবা এবং দ্বিতীয়টি হল পশ্চিমা ।অর্থাৎ পূর্বাঞ্চলের মানুষদেরকে পুবা এবং পশ্চিমাঞ্চলের মানুষদেরকে পশ্চিমা বলা হয় ।
বাংলাদেশের একেবারে উত্তরাঞ্চলের ভাষাটা মোটামুটি শুদ্ধ প্রকৃতির ।এরকম বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই আলাদা আলাদা আঞ্চলিক ভাষা সমুহ আমাদের ভাষাকে করেছে আরও প্রাচুর্যময় । যাই হোক ভাষার বৈচিত্রতার কারনেই বাংলা এত মধুর একটি ভাষা । কোন আঞ্চলিক ভাষা আমাদের ভাষা থেকে হারিয়ে গেলে তা হবে আমাদের ভাষার বিপর্যের কারন । এজন্য ভাষার শুদ্ধতার জন্য যেমন কাজ করা দরকার তেমনি এর আঞ্চলিক ভাষাগুলোর সংরক্ষন করাটাও আমাদের একান্ত কর্তব্য হয়ে দাড়িয়েঁছে ।

এজন্য আমি ভাষার জন্য যারা কাজ করছেন তাদেঁর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই প্রতি জেলাতে একটি করে ভাষা সংরক্ষণাগার তৈরী করা যেতে পারে । সেখানে শুধু ঐ জেলার আঞ্চলিক ভাষাগুলোকে প্রথমে লিখিতভাবে সংগ্রহ করে পরে স্থায়ীভাবে সংরক্ষন করতে হবে ।এজন্য প্রতি জেলাতে একজন করে ভাষা সংগ্রাহক এবং তার সাথে কয়েকজন সহকারী নিয়োগ দেয়া যেতে পারে ।
এতে করে আমাদের ভাষার জন্য কয়েকটি উপকার বয়ে আসবে । যেমন এর ফলে অনেক পরে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম আমাদের ভাষার সম্মৃদ্ধশীলতা, বৈচিত্রতা এবং মাধুর্যতা সম্পর্কে সহজেই অবগত হতে পারবে । তাছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আশা ভাষা গবেষকরা আমাদের ভাষাকে সহজে বিশ্লেষন, অন্যভাষায় রুপদান এবং এর বিন্যাস করতে সঠিক পথ অবলম্বন করতে পারবে । এভাবে আরও তাড়াতাড়ি আমরা আমাদের মাতৃভাষার বিভিন্ন রুপ এবং মাধুর্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে বাংলা ভাষার প্রতি ভাষা গবেষনার ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন করে দিতে পারি । যা আমাদের বাঙলা ভাষার সম্মানকে আরও উচুস্তরে নিয়ে যাবে ।
আমাদের মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায় আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে । যদি কেউ পারেন নিজ থেকেই এই আঞ্চলিক ভাষা সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিন । আমাদেরই প্রচেষ্টায় একদিন জাতি একটি আলোর মুখ দেখতে পারে ।

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/a-library-of-rural-development/23804.html



মন্তব্য করুন