A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

শিক্ষকতা ।

লিখেছেন: A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT

শিক্ষকতা কি শুধুই একটি পেশা, টাকা উপার্জনের জন্য বা শিক্ষক হিসাবে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার জন্য বা সামাজিক একটি পরিচিতির জন্য ? আমার বাবা আমাকে সবসময় বলেন, শিক্ষক হল একজন শিক্ষার্থীর বন্ধু, বাবা বা মা, ভাই এবং সর্বপরি একজন শিক্ষাদাতা । যদি কাউকে শিক্ষা দিতেই হয় তবে তা দিতে হবে মন থেকে ঠিক যেভাবে নিজে শিখেছো ঠিক সেভাবে ।

 

আমি নিজেও সবসময় ঐভাবে শিক্ষক হিসাবে নিজে নিজেকে তৈরী করতে চেষ্টা করেছি ।একজন শিক্ষকের ডাকে যদি একটি জনসমাবেশ তৈরী করা নাই যায় তবে আমার শিক্ষকতার স্বার্থকতাই বা কোথায় !আজ সামাজিক বিপর্যয় আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরছে ।এমন একটা ভাব যেন শিক্ষা দেওয়ার বা দিক নির্দেশনার কেউই নেই আমাদের । কিন্তু দেশে বিদ্যালয় কি প্রতিষ্ঠা কি কম হচ্ছে বা শিক্ষক নিয়োগ ?

 

এখনকার সময়গুলোতে বিদ্যালয়ের সঠিক সঙ্গাও পাল্টে যাচ্ছে । শিক্ষা শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নির্ভর এবং অর্থউপার্জনের পথ নির্ভর হয়ে পড়ায় আজকে সামাজিক এত অবক্ষয় । দুই দিক থেকেই কিন্তু এরকমটা হচ্ছে । শিক্ষকরা একদিকে বানিজ্যিক ভিত্তিতে শিক্ষাদান করার প্রবনতা বাড়াচ্ছেন অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সার্টিফিকেট অর্জন অর্থনির্ভরই হয়ে যাচ্ছে । সবাই শুধুমাত্র শ্রেনীতে ফাস্ট হওয়ার জন্যই অধ্যয়ন করছে । কিন্তু বিদ্যাএই শব্দটির যে সঠিক অর্থ তা একেবারেই আলাদা হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার সাথে ।

 

আমাদের প্রাচীন সামাজিক আচরনের সাথে আজকের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থার আকাশ পাতাল ফারাগ লক্ষ করা যায় । ৯০ এর দশকেও গ্রামে বা মহল্লায় কোন কাজ কেউ করতে গেলে প্রথমেই সবাই শিক্ষকের সাহায্য নিতেন । এমনকি পরিবারে বিয়ে শাদীতেও শিক্ষকেরই প্রাধান্য থাকতো সবচেয়ে বেশী । শুধু কি তাই স্কুলের সামনে দিয়ে গেলে বোঝাই যেত যে আমি বিদ্যালয়ের বিদ্যানদের সামনে দিয়ে যাচ্ছি । শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখর বিদ্যালয় যেন ছিলো নৈতিক শিক্ষার পূণ্যভূমি । কোন শিক্ষা দেওয়া হত না বিদ্যালয়ে ?

 

বাবা মাকে সম্মান করবে, শিক্ষকদের কথা মেনে চলবে, গুরুজনদের দেখলে সবসময় মাথানত রাখবে, মিথ্যা কথা বলবে না, রাস্তায় অনেক মূল্যবান জিনিস পড়ে থাকলেও নিজের বলে নিয়ে নেবেনা, ধুমপান করবেনা, সবসময় সকালে ঘুম থেকে উঠবে  ইত্যাদি ইত্যাদি সব ।শিক্ষকদের এই শিক্ষাগুলো কাজেও লাগতো অনেক । টেক্সট বই পড়ানোর ফাকে এখন আর পড়ানো হয় না-

 

          সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি

 

          সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি….

 

এই জাতীয় কথাগুলো । একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় তের চৌদ্দ বছরের বাচ্চারাও স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাচ্ছে । টিফিনের ফাকে বা ক্লাসেও অনেক সময় ফেইসবুক লগ-ইন করছে বা গেমস নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে । এইতো কয়েকদিন আগের খবরই বরিশলের গার্লস স্কুলে মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও সহ দুই মেয়ে শিক্ষকদের কাছে ধরা পড়েছে !এই কি শেষ, আজকাল নাকি শিক্ষকরাই মেয়েদের অশ্লীল ভিডিও ধারন করে !

 

আমার মনে আছে, সেই ছোট বেলায় নোবেল বই পড়াও ছিলো মহা পাপের কাজ ।নোবেল জাতীয় বই দেখলেই মা বাবা খেপে একেবারে ভুত । এইতো ছেলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । যৌনতা বা প্রেম সম্পর্কে জানার আগ্রহই ছিলো যেন সবচেয়ে বড় পাপ ।তারপরও আমরা আমাদেরকে সামাজিকভাবে দাঁড় করতে পেরেছি । বখে যাইনি, নেশার সাথে জড়াইনি, জীবনকে স্বচ্ছভাবে উপভোগ করার মন্ত্র খুজেঁ পেয়েছি আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকেই ।এমনও হত শিক্ষকরা বাড়িতে আসবে শুনলে মনে হত আমার জীবন মনে হয় ধণ্য হয়ে যাবে । মনে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার আগে একদিন স্যাররা সবাই মিলে রাত দশটার দিকে হাজির যে আমরা পড়াশোনা করছি কিনা ।এরকম অনেক শিক্ষক ছিলেন যারা নিজের জীবনের আরামের চেয়েও গুরুত্ব দিতেন শিক্ষার্থীদের জীবনের ভিত্তিকে । তাদেঁর কাছে শিক্ষা দেওয়া ছিলো আনন্দের কাজ, নিজেকে সঠিক দায়িত্ববান শিক্ষক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চ্যালেঞ্জ । কিন্তু দিনদিনই এই অবস্থা সঙ্কটাপূর্ন হয়ে যাচ্ছে ।

 

সাধারনভাবে চিন্তা করলেও এটা স্পষ্ট কেন হচ্ছে এরকম । একটি প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য যদি ৪-৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় তবে কে ব্রত নিয়ে শিক্ষকতা করবে আর কেনই বা করবে !তার সবচেয়ে বড় লক্ষই থাকে যততাড়াতাড়ি সম্ভব স্কুল থেকে বাড়ি গিয়ে নিজের কাজ করা । স্কুল কলেজ আর ভার্সিটিই বলুন দুর্নীতি করেতো শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছেই তাইনা ? এই নিয়োগগুলোর কারনে যারা মনে প্রানে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তারা বঞ্চিত হচ্ছে । আর দেশ বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক শিক্ষাদানে সম্ভব শিক্ষক পাওয়া থেকে ।

 

আজ শিক্ষক দিবস । আমাদের দেশে এখনও অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা নিজেরা একাই একটি প্রতিষ্ঠানকে সততার সাথে চালিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, শিক্ষার্থদের মূল্যবোধ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, গড়ে তুলছেন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে । তাদের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা । এরই সাথে যারা দায়িত্বে অবহেলা করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধুমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচনা করছেন তাদর প্রতি আমি অনুরোধ করছি আপনারা দয়া করে অনুধাবন করুন এটা শুধু পঁয়শা কামানোর জায়গা নয়, এটা বিদ্যালয় আর যারা এই বিদ্যালয়ে বিদ্যা শেখান তারা এখানকার প্রান এবং তাদের অবশ্যই এই পেশাকে অর্থনৈতিক বা সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মাধ্যম হিসাবে না নিয়ে বরং ব্রত হিসাবে নিতে হবে । সমাজকে শুসৃঙ্খল করতে হলে শিক্ষকদের অবশ্যই সাতসাগরের মাঝি হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ।

 

শিক্ষক দিবসে আবারও সকল সৎ শিক্ষকদের প্রতি জানাচ্ছি শ্রদ্ধা আর মন থেকে ভালোবাসা ।         

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/a-library-of-rural-development/23124.html

 2 টি মন্তব্য

  1. rajibnoor

    সহজ সরল সুন্দর লেখা ।

    1. A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT

      রাজিব নুর, আপনাকে অনেক ধণ্যবাদ মন্তব্য করার জন্য । ভালো থাকুন সবসময় ।

মন্তব্য করুন