A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT-এর ব্লগ

প্রিন্ট প্রকাশনা

পার্থক্য করা যাচ্ছে না !

লিখেছেন: A LIBRARY OF RURAL DEVELOPMENT

একটি করে দিন যাচ্ছে আর আমরা নিজেদেরকে আরো বেশী উৎকর্ষ বলে দাবি করতে শিখে যাচ্ছি সেটা ধরতে গেলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই । তার মধ্যে সবচেয়ে যে দিকগুলো গুরুত্ব পায় তা অবশ্যই অর্থনীতি এবং শিক্ষা । এই দুটি বিষয়ে আমাদের দেশের উন্নয়ন গত কয়েক বছরে অন্যান্য অনেক উন্নত দেশের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে ।আমাদের সবচেয়ে হতাশার বিষয় আমাদের অস্থির রাজনীতি যেমন একদিকে অর্থনীতিকে তার সঠিক উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে বাধাগ্রস্থ্য করছে তেমনি জনজীবনকে ভীত এবং উৎকন্ঠিতও করছে । কিন্তু আমরা যেখানে আমাদের স্বপ্ন বুনি সে জায়গাটি আমাদের তরুন সমাজ, আমাদের শিক্ষিত সমাজ তাদের নিয়ে । আমাদের দৃঢ় আশা তারা আমাদেরকে এমন একটি বাংলাদেশ উপহার দেবে যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগীতা থাকবে কিন্তু ক্ষমতা দখলের নেশা থাকবেনা । আমার মত কোটি মানুষ এভাবেই এই তরুনদের মুখ চেয়ে আছে । আর না থাকারই বা অবকাশ কিসে । যদি শিক্ষা আমাদের এইটুকু স্বপ্ন বুনতে না দেয় তবে আমরা কিসেরই বা শিক্ষা নেই !

 

আজ আমরা হরতালের জন্য নিস্পেষিত হই । রাস্তায় মানুষের লাশ কুকুরের মত পড়ে থাকে । পুলিশ মার খায়, আইন যেকোন মানুষ তৈরী করে ফেলার মত কথা বলে তারপরও আমরা নিরাশ হইনা কারন আমাদের যে ভবিষ্যৎ তাদের উপর আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি যে তোমরা পারবে আমাদের এই নৃশংস মৃত্যু দেখা থেকে মুক্তি দিতে ।

 

সভ্যতা আনয়নের জন্য যে জায়গাগুলো তৈরী করা প্রয়োজন সেটা হল তরুন সমাজের মধ্যে ভালো খারাপের পার্থক্য তৈরী করার মানুষকতা অজর্ন ।কিন্তু এখানেই কি বড় ধরনের ফাঁক থেকে যাচ্ছে কিনা এটাই আজ বড় প্রশ্ন ।

 

সম্প্রতি ডিপ্লোমা ইন্সটিউট এর শিক্ষার্থীদের আচরন সারা জাতিকেই এই প্রশ্নের সম্মুক্ষীন করে দিয়েছে । ক্লাস বর্জন করে এসে নিজেদের প্রোকৌশলী হিসাবে ঘোষনা দেওয়ার দাবিতে তারা রাস্তায় যে আন্দোলনের চিত্র দেখিয়েছে তাতে করে তাদের এবং সকল শিক্ষিত সমাজ নিয়েই অনেকে আড়চোখে তাকাতে একটুও দ্বিধা করেনি । কিন্তু এমন কেন হল ? কোন দাবি শিক্ষার্থীরা করতেই পারে তাই বলে এই দাবি আদায়ের জন্য এই ভাবে গাড়ি ভাংচুর আর লাঠি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি এটা কিসের সভ্যতা তৈরী হল !তবে আমরা যে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি তাকি আদৌ পূরন হবার নয় ?

 

এখন এমন একটা অবস্থা দাঁড়াচ্ছে যে, কোন চাওয়া মানেই তা আন্দোলন করে চাইতে হবে । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেডিং পদ্ধতির জন্য যে আন্দোলন হয়েছিলো তাতেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষনা মর্মাহতই করেছে আমাদের । যে নিয়ম রাখা যাবেনা তা করার মানেই কি আর নিয়ম করতে গিয়ে কোন শিক্ষার্থীকে চাপে ফালানোর মানেই কি ? এরপর আবার এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্য়য়ের সময়ও প্রায়ই আন্দোলন জমে উঠেছিলো বলে ।

 

তবে যাই হোক আমরা শিক্ষিত সমাজের কাছ থেকে এমন আন্দোলন পদ্ধতি আশা করি না যে আন্দোলনে মানুষ রাস্তায় চলতে ভয় পায়, গাড়ি নিয়ে বেড়োতে ভয় পায় অথবা আন্দোলনের তোড়ে কোন মেয়ে রিকশার পিছনে গিয়ে ভীত হয়ে বাঁচার জন্য আশ্রয় নেয় ! এগুলো শুধু দৃষ্টি কটুই নয় শিক্ষার কলঙ্কও ধরা যায় । যেখানে কলমকে বলা হয় তরবাড়ির চেয়ে ধারালো অস্ত্র সেখানে সেই কলম হাতে থাকার পরও আজ ছাত্রছাত্রীদের হাতে লাঠি বা অস্ত্র কেন ! একটু ভেবে দেখে আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি আকুল অনুরোধ রাখছি দাবি আদায়ের জন্য লাঠি, মিছিল বা শক্তির মহরা নয় আপনারা কলম ব্যবহার করুন । এতে দাবিতো আদায় হবেই আমাদের শিক্ষিত মানুষের জোড়ও অনেক বেড়ে যাবে । একটি যৌক্তিক আন্দোলনও কুৎসিত হয়ে যেতে পারে শুধু আন্দোলনের পদ্ধতির কারনে ।আজ আমাদের পার্থক্য করা যেন কঠিন না হয়ে যায় যে, কারা সত্যিকারের শিক্ষিত আর কারা শিক্ষা নিয়ে কলঙ্কিত । আন্দোলনের এই পদ্ধতির প্রশ্নের পাশাপাশি দায় কিন্তু কর্তা ব্যক্তিদেরও থেকে যাচ্ছে কম নয় । ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের যে দাবি তা কতটুকু গ্রহনযোগ্য তা নিরুপণ করার প্রয়োজনও কিন্তু কম ছিলোনা ।তারা একদিনে এমন ফুসে ওঠেনি । এর আগে তারা ক্লাস বর্জন সহ নানা কর্মসূচী পালন করে জানান দিয়েছিলো যে তাদের একটি দাবি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কাছে আছে । কিন্তু সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে হেলা করার ফল আবারও সেই লজ্জা !

 

প্রয়োজনে প্রোকৌশলীদের একটা গ্রেডিং করে দেওয়া যেতে পারে । বিএসসি যারা করবে তাদের একটি গ্রেড, যারা ডিপ্লোমা করবে তাদের একটি গ্রেড এবং যারা সাধারন কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত হবে তাদের একটি আলাদা গ্রেড । তবে যারা ডিপ্লোমা করছে তাদের প্রোকৌশলী হিসাবে গ্রহনযোগ্যতা চাওয়া কি খুব বেশী কিছু? প্রকৌশলী হিসাবে ডিপ্লোমাধারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার আগে পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে । সব কিছু ভেবে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করাই সবচেয়ে যুগোপযোগী কাজ বলে বিবেচিত হবে ।

 

সবশেষে বলতে গেলে আন্দোলনের ভাষা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন প্রতিহিংসাপরায়নতা কেউই দেখতে চায়না । এটা লজ্জার এবং শিক্ষার জন্য কলঙ্কের । তাই সকল শিক্ষিত মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে আকুল আবেদন আসুন আমরা কলমকে যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবহার করি । তবেই অন্যায় দূরীভুত হবে, ভবিষ্যৎ সঠিক নেতৃত্ব পাবে, পার্থক্য করা যাবে শিক্ষিত আর অশিক্ষত মানুষের মধ্যে আর দেশ হবে শান্তির বাংলাদেশ ।             

 

 

 

 

এ লেখার লিংক: http://projonmoblog.com/a-library-of-rural-development/22961.html



মন্তব্য করুন